বহু প্রতীক্ষিত ভোট শুরু, ভোর হতেই চট্টগ্রামে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
ছবি: ডেইলি সান
রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক বিশাল বাঁক পেরিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আজ। তারই অংশ হিসেবে ব্যালট বাক্সে নিজেদের রায় দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ভোটাররা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, যা শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শুরুর পর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে বন্দরনগরী ও জেলা জুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন।’
সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শীত উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন নগরবাসী।
সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারী ভোটারদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে দেখা গেছে দায়িত্বরতদের।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভোটারদের এই উপস্থিতি এবং বিশেষ করে তরুণদের আগ্রহ গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১৫ জন প্রার্থী। চট্টগ্রামে মোট ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
চট্টগ্রামে ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। আর ভোটকক্ষ রয়েছে ১২ হাজার ৬০১টি। এর মধ্যে ৬ শতাধিক কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ; তাদের ভাষায় এ কেন্দ্রগুলো ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘অপারেশনস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম’। এখান থেকে ঝুঁকিভিত্তিক ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছিলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া ১১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্ট্রাইকিং ফোর্সের আওতায় রাখা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা সমস্যা দেখা দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফোর্স পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনের প্রার্থীরা
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): বিএনপির নুরুল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির এ কে এম আবু ইউসুফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল করিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): বিএনপির সারওয়ার আলমগীর, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, গণ অধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির ও জিন্নাত আকতার।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আলাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বিএসপির মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, গণ অধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজউদ্দৌলা।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): বিএনপির মীর মো. হেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতি উল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল্লাহ আল হারুন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আবদুর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও): বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টির জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরুল আলম ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. এমদাদুল হক।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া): বিএনপির মো. আবু সুফিয়ান, জামায়াতে ইসলামীর ডা. এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মো. হাসান মারুফ, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুশ শুক্কুর, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নঈম উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবচার মজুমদার ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): বিএনপির সাঈদ আল নোমান, জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আসমা আক্তার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, জাতীয় পার্টির মো. এমদাদ হোসাইন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরমান আলী।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শফিউল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, বাসদের নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুর উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মো. ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আবু তালেব হেলালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসাইন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা ও এনডিএমের মো. এমরান।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ): বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমেদ, এলডিপির ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মৌলানা মো. সোলাইমান, জাতীয় পার্টির মো. বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল হামিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচ এম ইলিয়াস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুর রহমান রাহী।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া): বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন, জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): বিএনপির মেশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবদুল মালেক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক, গণ অধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।