ভোট দিতে বাড়ি ফেরার ঢল, সদরঘাটে ঈদের মতো ভিড়
জীবনের প্রথম ভোট দিতে কিংবা দীর্ঘদিন পর নিজের ভোট নিজে দিতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ক্যালেন্ডারের পাতায় ঈদের ছুটি নেই। কিন্তু রাজধানীর সদরঘাটের দৃশ্য বলছে ভিন্ন কথা। ঈদ যাত্রার মতোই ভিড় দেখা গেছে সদরঘাটে। তবে এবারের গন্তব্য আনন্দভ্রমণ নয়, ভোট। জীবনের প্রথম ভোট দিতে কিংবা দীর্ঘদিন পর নিজের ভোট নিজে দিতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ। সড়কে যানজট ও গাড়ি সংকটে পড়েও শেষ পর্যন্ত নৌপথে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকেই।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদরঘাটে দাঁড়িয়ে কথা হয় সোহেল আহমেদের সঙ্গে। তিনি পটুয়াখালীর বাসিন্দা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সবজি বিক্রি করেন। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলেও সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো গাড়ির টিকিট পাননি। শেষে লঞ্চে করেই বাড়ি ফিরছেন তিনি।
সোহেল বলেন, ‘জীবনে কখনো ভোট দিতে পারিনি। ২০১১ সালে ভোটার হলেও ২০১৪ সালে ভোট দিতে গিয়ে সুযোগ পাইনি। এরপর আর যাওয়া হয়নি। এবার যত কষ্টই হোক বাড়ি গিয়ে ভোট দেবো। নিজের ভোট নিজে দিতে পারার আনন্দের চেয়ে বড় কিছু নেই।’
প্রথমবার ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন লাইলি আক্তারও। তিনি যাচ্ছেন বরিশাল। সদরঘাটে কথা বলতে গিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাতে পারেননি তিনি। লাইলি বলেন, ‘জীবনে প্রথম ভোট দেবো। অফিস থেকে চার দিনের ছুটি নিয়েছি। যানজটের কথা ভেবে দুপুরেই বের হয়েছি। মিরপুর থেকে সদরঘাট আসতেই চার ঘণ্টা লেগেছে। কষ্ট হলেও ভোটটা শান্তিমতো দিতে পারলেই সব কষ্ট ভুলে যাবো।’
ভোটের এই যাত্রায় শুধু শ্রমজীবী মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীরাও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ভোলার উদ্দেশ্যে পরিবারসহ রওনা হওয়া একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্মকর্তা রাজিব আহসান বলেন, ‘এবার নির্বাচনটা যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষরা শত কষ্টেও বাড়ি যাচ্ছে শুধু নিজের ভোটটা দিতে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেই জমে থাকা আবেগ থেকেই এবারের ভিড়।’
তিনি আরও বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তিপূর্ণ ভোটই এখন সবার প্রত্যাশা।
যাত্রীদের ভিড়ে সদরঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। টার্মিনালের ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ঈদের মতো ভিড়। ভোটকে সামনে রেখেই মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। ভিড় বাড়ায় আমাদের বেচাকেনাও বেড়েছে।’
এদিকে দুপুরের পর থেকেই পুরান ঢাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে সদরঘাটমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে থাকে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মোবারক হোসেন বলেন, নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি আজ দ্বিগুণ সংখ্যক লঞ্চ চালানো হচ্ছে। বরিশাল রুটে যেখানে প্রতিদিন দুটি লঞ্চ চলে, সেখানে আজ সাতটি লঞ্চ ছেড়েছে। অন্যান্য রুটেও বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রতিটি লঞ্চে ভাড়ার চার্ট টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না।