ছুটির দিনে জমজমাট বাণিজ্য মেলা, বেড়েছে বিক্রি
বিশেষ মূল্য ছাড়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে বিক্রেতারা
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আকর্ষণীয় ছাড়, পণ্যের বৈচিত্র্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পূর্বাচলের ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।
মেলার তৃতীয় সপ্তাহের শুক্রবারে সকাল থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।
টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ সারি আর প্যাভিলিয়নগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় বাণিজ্য মেলা যেন এক বিশাল নগর উৎসবে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ঘর সজ্জা, কসমেটিকস, প্লাস্টিক ও ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ কিংবা ‘৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়’- এর মতো অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন বিক্রেতারা।
বিশেষ করে শীতকালীন পোশাক, শাড়ি ও শিশুদের সামগ্রী বিক্রিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। আরএফএল প্যাভিলিয়নের বিক্রয় প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ জানান, গৃহস্থালির পণ্যে মানুষের আস্থা থাকায় শুক্রবারের বিক্রি অত্যন্ত সন্তোষজনক।
এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা দিয়েছে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দর্শনার্থীরা আকিজ গ্রুপ ও রাইডোর প্যাভিলিয়নে ভিড় করছেন।
আকিজ গ্রুপের এক কর্মকর্তা জানান, মাত্র ১০ টাকার বিদ্যুতে ১০০ কিলোমিটার চলার সুবিধা থাকায় মানুষ এখন ইলেকট্রিক বাইকের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া জেলখানার কারাবন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প পণ্যও সচেতন ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
কেনাকাটার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণ এখন বিনোদনের বড় কেন্দ্র। শিশু বিনোদন কেন্দ্রের রাইডগুলোতে মেতেছে খুদে দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে, খাবারের জোনগুলোতে ছিল ভোজনপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। হাজী বিরিয়ানি ও তুর্কি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্টলে দুপুরের পর থেকেই দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, ছুটির দিনে বেচাকেনা অন্য দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
মেলার জৌলুস বাড়লেও কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের সংস্কারকাজের কারণে যানজট ও ধুলাবালিতে দর্শনার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তবে মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৯ শতাধিক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি র্যাবের টহল জোরদার রয়েছে।
টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মুনকাদির ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলায় দেশি-বিদেশি ৩২৪টি স্টল অংশ নিয়েছে। ভারত, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরসহ ১১টি দেশের পণ্য নিয়ে সাজানো এই মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।