বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ রক্ষা নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিরও অংশ: ফরিদা আখতার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশগত কোনো শৌখিন উদ্যোগ নয়, বরং এটি গ্রামীণ সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক নারী নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং সামাজিক নিরাপত্তার তাগিদে গাছ রোপণ করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘১ টাকায় বৃক্ষরোপণ’ আয়োজিত ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাওর অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, করচ ও হিজলের মতো দেশীয় জলজ গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলায় হাওরের স্বাভাবিক চরিত্র যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে মাছের আবাসস্থল।
কৃষি রক্ষার দোহাই দিয়ে নির্মিত অপরিকল্পিত বাঁধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব বাঁধ পানি প্রবাহ ব্যাহত করছে, যা মাছের প্রজনন ও জীবনচক্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
টাঙ্গুয়ার হাওরসহ পর্যটন এলাকাগুলোতে দায়িত্বরত পর্যটকদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে ফরিদা আখতার বলেন, পর্যটকদের ফেলে আসা প্লাস্টিক, সিগারেট ও আবর্জনা মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।
এই ধরনের দায়িত্বহীনতাকে তিনি ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সমুদ্রে মাছ আহরণে সোনার প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ২৩৫টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্বিচারে সব প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। এতে বহু প্রজাতির মাছ আর জীবিত থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে বাংলাদেশের সমুদ্রে ৪৭৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বে একেবারেই অনন্য। এ সম্পদ ধ্বংসের ঝুঁকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভেনামি চিংড়ি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি বিদেশি ও ইনভেসিভ প্রজাতি, যা দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি। বাণিজ্যিক চাপ থাকলেও দেশীয় প্রজাতির ক্ষতি হয়—এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না।
এ সময় আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নূর মোহাম্মাদ আজামী, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিল প্রমুখ।