EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ছুটির দিনে জমজমাট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

প্রথম ছুটির দিনেই জমজমাট বিকিকিনি

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

ছুটির দিনে জমজমাট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

অ অ

রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সপ্তম দিন আজ শুক্রবার। শুরুর কয়েকদিন ক্রেতা কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। প্রতিবারের মতো এবারও প্রসাধনী, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া খাবারের স্টলগুলোতেও লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ডিআইটিএফ প্রাঙ্গণ।

এ মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে জুলাই আন্দোলন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। সেখানে ছবি তুলতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

গৃহস্থালি পণ্যের প্যাভিলিয়নে গৃহিণীদের ভিড়। ছবি: মাহবুব আলম

প্রতিবারের মতো এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের অংশ হিসেবে রয়েছে প্যাডেল বোট, স্লিপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড। রয়েছে বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ বিভিন্ন আইসক্রিমের স্টল। খাবারের মধ্যে এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ তুর্কি রেস্টুরেন্ট। নতুন স্বাদ পেতে নতুন এই লেভেলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা।

এছাড়া আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ কোম্পানি, ডাচ-বাংলা স্যুট, সাফারি, থ্রি-পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালির নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলে সাজানো নানা ধরনের পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, গৃহসজ্জা, কসমেটিকস কিংবা পোশাক কিনতে বাণিজ্য মেলায় ছুটে এসেছেন অনেকে। নানা ধরনের ছাড়ের টোপে ক্রেতাদের সামলাতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রয় প্রতিনিধিদেরও।

সাওঘাট এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী বিউটি আক্তার বলেন, ‘ছুটির দিনে সময় পাওয়ায় বাণিজ্য মেলায় এসেছি। ছেলে-মেয়ে ও স্বামীসহ পরিবারের জন্য টুকটাক কেনাকাটা করেছি। মাশাআল্লাহ, বাণিজ্য মেলায় অনেক রকমের পণ্য উঠেছে।’

ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড়, খুশি বিক্রেতারা। ছবি: মাহবুব আলম

নরসিংদী থেকে আসা দর্শনার্থী স্বপন মিয়া বলেন, ‘রাস্তাঘাটে উন্নয়ন কাজ চলায় মেলায় আসতে গিয়ে ধুলাবালি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। তারপরও মেলায় আসতে পেরেছি, এটাই আনন্দের। প্রতি বছরই মেলায় এসে কেনাকাটা করি।’

এবারের মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে স্থান পেয়েছে ৩২৪টি স্টল। রয়েছে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর মেলার প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বড়োদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। তবে কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহত ব্যক্তিরা।

মেলার দায়িত্বে থাকা অপারেশন ইনচার্জ এস এম আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহের কারণে ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী কম ছিল। ষষ্ঠ দিনে প্রায় ১৮ হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল। মেলার প্রথম শুক্রবারে ছুটির দিনে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, ছুটির দিনে শুক্রবার ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম বেশি হবে বিধায় আমরা আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি। নিরাপত্তায় ৯০০ পুলিশ সদস্য ও আনসার নিয়োজিত রয়েছেন। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাক্ষণ উপস্থিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ৩রা জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৩ লাখ ৭৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এবারের মেলা স্থল। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে (পূর্ববর্তী তিন বছরের মতো) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা।

আরও পড়ুন