EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি

বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করছি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করছি

জুবায়ের রহমান

অ অ

মামলা জট কমাানোর পাশাপাশি বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা সচিবালয় গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার পথে যাত্রা শুরু করেছি। তাই আমি এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি যা বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নে, বিশেষ করে জেলাপর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখবে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনার জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে (বিচারকক্ষ) এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আায়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথমে লিখিত বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য দেন। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের ঘোষিত রোডম্যাপের ভিত্তিতে কাজ করতে চান উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে (ঘোষিত রোডম্যাপে) কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জন আনা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মামলার জট কমাতে এবং বিচারক-আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী, যারা ন্যায়বিচারের আশায় এখানে আসেন, তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছি।’

আইনজীবীদের পেশাগত মান ও দক্ষতা বাড়াতে আইনজীবী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীলদের আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। আইন পেশার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আদালতের ভিতরে-বাইরে আইনজীবীরা যাতে তাদের পেশাদার আচরণ বজায় রাখেন। সে জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাই কোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩ এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল আদেশ ও বিধিমালা, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট বিধান নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বা লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বসবাসের একটি উত্তম স্থানে পরিণত করার জন্য চেষ্টা করি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।’

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বলেন, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল আদালত। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসনের সময়ে সেখানে নির্যাতিত অসহায় মানুষের ঠাঁই হয়নি। সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল। বিগত পনেরো বছরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’

বিচার বিভাগ দুর্নীতিতে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘মামলা জট কমাতে হলে মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে। বিচার বিভাগকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতির কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের এই নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করি আপনি বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করবেন। নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। সমাজের সব স্তরে বৈষম্য দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন।’

গত ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যান দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তার আগে ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। ২৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]

আরও পড়ুন