EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

‘আমি আপনাকে অন্যভাবে চিনি’— খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন নাইজেরিয়ান নার্স

সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৯২ সালে মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করার যুগান্তরকারী সিদ্ধান্ত নেয়

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

‘আমি আপনাকে অন্যভাবে চিনি’— খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন নাইজেরিয়ান নার্স
অ অ

‘আমি আপনাকে অন্যভাবে চিনি। আপনি সেই প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। আমার দেশের সরকার আপনার সেই নীতি গ্রহণ করেছে, যার সুফল আমি নিজে পেয়েছি।’

লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবেই নিজের কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন সেবায় নিয়োজিত এক নাইজেরিয়ান নার্স। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি পুরোনো সেমিনারের ভিডিও সামনে আসে। সেখানে স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান জানান, লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন ওই নাইজেরিয়ান নার্স। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখা মাত্রই চিনে ফেলেন এবং গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। সেই নার্স জানান, বাংলাদেশের এই সফল মডেল অনুসরণ করে নাইজেরিয়া সরকারও মেয়েদের জন্য ফ্রি শিক্ষার সুযোগ করে দেয়। সেই সুযোগেই পড়াশোনা শেষ করতে পেরেছিলেন তিনি, যার ফলশ্রুতিতে আজ তিনি যুক্তরাজ্যে (ইউকে) পেশাগত জীবনে সফল।

সীমানা ছাড়িয়ে সাফল্যের আলো বাংলাদেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতি আজ সারাবিশ্বে এক বিস্ময়কর সাফল্যের নাম। এই সাফল্যের বীজ বপন করা হয়েছিল তিন দশক আগে, ১৯৯২ সালে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই দূরদর্শী শিক্ষানীতি কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং বিদেশের মাটিতেও যে সমানভাবে সমাদৃত ও অনুকরণীয়, এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য প্রমাণ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বেগম খালেদা জিয়ার এই উদ্যোগকে তখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়নে ১৯৯২ সালের বেগম খালেদা জিয়ার সেই শিক্ষানীতি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তার এই নীতি অনুসরণ করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের মেয়েদের জন্য প্রাথমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক (প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি) পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করে দেয়।

ঝরে পড়া রোধের হাতিয়ার কেবল টিউশন ফি মওকুফ করাই নয়, ছাত্রীদের ক্লাসে ধরে রাখতে চালু করা হয় ব্যাপকভিত্তিক উপবৃত্তি কার্যক্রম। সরকারের এই আর্থিক সহায়তা তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র পরিবারগুলোকে তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করে।

এর ফলে গত কয়েক দশকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের সংখ্যা অভাবনীয় হারে বেড়েছে। বর্তমানে দেশে অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছাত্রদেরও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উপবৃত্তি প্রকল্পই বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।


বিশ্বের অনেক দেশে ছেলে-মেয়ে সবার শিক্ষা অবৈতনিক। এর মধ্যে রয়েছে—

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ১৫ বছরের মৌলিক শিক্ষা অবৈতনিক। এর মধ্যে ৩ বছরের প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৬ বছরের প্রাথমিক এবং ৬ বছরের মাধ্যমিক (অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত) শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধা ২০০৯ সাল থেকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কায় শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি। সেখানে ১৯৪৫ সাল থেকে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক (ইউনিভার্সিটি) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা সবার জন্য পুরোপুরি ফ্রি। স্বভাবতই ছাত্রীরাও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ পায়।

ভিয়েতনাম

সম্প্রতি ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশটিতে সরকারি স্কুলগুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রীর টিউশন ফি পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে।

চীন (বিশেষ স্কুল)

পুরো চীনে ঢালাওভাবে মেয়েদের জন্য আলাদা নীতি না থাকলেও, চীনে হুয়াপিং গার্লস হাই স্কুল নামক একটি বিশেষ উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে যা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি চীনের প্রথম সম্পূর্ণ ফ্রি পাবলিক হাই স্কুল যেখানে শুধু দরিদ্র ঘরের মেয়েরা পড়াশোনা করে।

উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা সাধারণত সবার জন্য (ছেলে ও মেয়ে) সমানভাবে ফ্রি। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাংলাদেশ বা কিছু আফ্রিকান দেশ মেয়েদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং বাল্যবিবাহ কমাতে বিশেষভাবে নারী শিক্ষা ফ্রি করার ওপর আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন