শাপলা চত্বরের ‘অজানা হত্যাযজ্ঞ,’ ভয়াবহতার বিবরণ দিলেন প্রেস সচিব
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত ৪৯-এ পৌঁছায়। পরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তদন্তেও প্রায় ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, যুবলীগ–ছাত্রলীগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, ভয় দেখানো ও হত্যা- আওয়ামী লীগ সরকার একই কৌশলই বারবার ব্যবহার করেছে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ওই রাতের ভয়াবহতার বর্ণনা দেন।
শফিকুল আলম জানান, শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতেই প্রথম দফায় হতাহতের খবর পাওয়া শুরু করে। মতিঝিল, পল্টন, বিজয়নগরসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তখন তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। অফিসের জানালা থেকেই দেখা যাচ্ছিল শাপলা চত্বরে কয়েক দশক হাজার মানুষের ভিড় এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাশ আনার দৃশ্য।
রাত আটটার দিকে প্রথম বড় তথ্য আসে—শাহীদবাগ-মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ ছয়জন হেফাজত সমর্থকের লাশ নেওয়া হয়েছে। শফিকুল আলমের সহকর্মীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ফোন করে তথ্যটি নিশ্চিত করেন। পরে দ্বিতীয় উৎস থেকেও একই তথ্য নিশ্চিত হলে এএফপি ঘটনাটি প্রধান খবর হিসেবে প্রকাশ করে।
পরদিন কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালেও আরও লাশের খবর পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে আসতে থাকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডের তথ্য—যেখানে ভোরে বাড়ি ফিরতে থাকা হেফাজত কর্মীদের ওপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গুলি চালিয়েছে বলে হাসপাতালসূত্রে জানা যায়। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে আরও মৃত্যুর প্রমাণ মিলছিল, যদিও পুলিশ ও বিজিবি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তখন পুলিশ দাবি করেছিল—অভিযানে মোট হতাহতের সংখ্যা খুবই কম এবং তারা কাউকে হত্যা করেনি। কিন্তু এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত ৪৯-এ পৌঁছায়। পরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তদন্তেও প্রায় ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন—শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, পল্টন ও ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় সেদিন বহু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় সশস্ত্র যুবলীগ-ছাত্রলীগের একটি অংশ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত দুইজনের নামও উল্লেখ করেন, যারা পরে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে নিহত হন।
প্রেস সচিবের ভাষ্য—গত এগারো বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার একই কৌশল ব্যবহার করেছে: দলীয় সশস্ত্র গ্রুপ দিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, ভয় দেখানো ও হত্যা। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনগণের প্রতিরোধের মুখে এসে সেই কৌশল ভেঙে পড়ে।
শাপলা চত্বরের সেই রাতটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও তদন্তের দাবি থাকলেও সরকারিভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। প্রেস সচিবের নতুন এই বয়ান ঘটনাটি আবারও জাতীয় আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে।