EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কড়াইল বস্তিতে উৎসুক জনতার ভিড়, ব্যাহত উদ্ধার কার্যক্রম

ধ্বংসস্তূপে ভিড়, বন্ধ তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ এএম

কড়াইল বস্তিতে উৎসুক জনতার ভিড়, ব্যাহত উদ্ধার কার্যক্রম

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একদিন পর রাজধানীর কড়াইল বস্তির ধ্বংসস্তূপে ভিড় করছেন আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসংখ্য উৎসুক মানুষ। কৌতূহলী জনতার এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সহায়তা কার্যক্রম চালাতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বস্তি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উৎসুক জনতার ঢল ক্ষতিগ্রস্তদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মহাখালীর খামারবাড়ি মাঠ থেকে শুরু করে বউবাজার ঘাট পর্যন্ত মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি দেখছে। কারও হাতে মোবাইল, কেউ লাইভ করছেন, আবার কেউবা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করছেন। এই ভিড়ের কারণে বস্তির ভেতরের সরু রাস্তায় চলাচল এবং মূল প্রবেশপথ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ লাইন পরীক্ষা করতে আসা ডেসকোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক জায়গায় তার পুড়ে গেছে, কোথাও আবার ঝুলে আছে। আমরা সেগুলো পরীক্ষা করছি। কিন্তু এই এলাকায় এতো মানুষ যে, ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। এভাবে কাজ চললে নিরাপত্তাজনিত মারাত্মক ঝুঁকি আছে।’

ভিড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঘর হারানো পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পৌঁছাতে গিয়ে রাস্তায় দেখা গেছে, ভিড় ঠেলে বিধ্বস্ত ভিটেতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা।

ঘর হারানো আবদুল হামিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ঘর তো শেষ, এখন অন্তত দেখতে চাই কী অবস্থা। কিন্তু ভিড়ের কারণে ঢুকতেই পারছি না। মানুষের ভিড় না থাকলে হয়তো আমরা নিজেদের কিছু জিনিস খুঁজে নিতে পারতাম।’

ব্র্যাক কর্মকর্তা রাজিব আহমেদও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষ দেখে যেতে চায় এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখন পরিস্থিতি খুব সেনসিটিভ। ক্ষতিগ্রস্তদের চলাচল, ত্রাণ দেওয়া এবং নিরাপত্তা সবই ভিড় কমলে সহজ হবে।’

সকাল পেরিয়ে বেলা বাড়তে থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভিড় কমেনি। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস এবং এলাকাবাসী বারবার অনুরোধ করলেও কৌতূহলী জনতাকে কিছুটা দূরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও অনিয়ন্ত্রিত জনতার ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন