EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কেঁচো সারে ভাগ্যের চাকা ঘুরল চিরিরবন্দরের ৩৯ উদ্যোক্তার

সিডিএ ও কৃষি বিপণন দপ্তরের প্রশিক্ষণে স্বাবলম্বী চিরিরবন্দরের ৩৯ পরিবার; পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নতুন আশা

ডেইলি সান রিপোর্ট, দিনাজপুর

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

কেঁচো সারে ভাগ্যের চাকা ঘুরল চিরিরবন্দরের ৩৯ উদ্যোক্তার

দিনাজপুরে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ভাগ্যের চাকা বদলে ফেলেছেন উদোক্তারা। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন ৩৯ জন নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ) এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় এখন তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

বুধবার (২৪ জুন) চিরিরবন্দর উপজেলার ৭নং আওলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মোহাদানী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই কেঁচো সার কীভাবে গ্রামীণ নারীদের সংসারে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে।

মোহাদানী গ্রামের রূপনাথ রায়ের স্ত্রী স্মৃতি রায় জানান তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। তিনি বলেন, ‘সিডিএ’র সহযোগিতায় এবং কৃষি বিপণন দপ্তরে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। প্রথমে ৩০ টাকা করে দুটি মাটির গুড়ের খালি চাড়ি কিনে কাজ শুরু করেছিলাম। এখন আমার ১৬টি চাড়িতে কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে।’

স্মৃতি রায় আরও জানান, সিডিএ’র সহযোগিতায় গঠিত ‘ভূমিহীন জনসংগঠন’ ইউনিটের মাধ্যমে এই সার বিক্রি করে তাদের সংসারে অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে এবং পরিবারে তার ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। সারের আয়ে এখন তার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চলছে এবং পরিবারের সদস্যরাও এখন তার সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার উৎপাদিত সার কিনে গ্রামের কৃষকরাও এখন রাসায়নিক মুক্ত ফসল আবাদ করছেন।

একই এলাকার নারী উদ্যোক্তা মায়া রাণী, রূপালী রায় এবং চকমুসা জনসংগঠনের সদস্য তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাশেদ আলী জানান, তারা ১২টি রিং এবং ৫টি হাউসে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে তাদের ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ আলী বলেন, ‘সিডিএ আমাদের শুধু ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রশিক্ষণই দেয়নি, বরং উৎপাদিত সার বিক্রির জন্য বাজারেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ফলে আমরা আজ অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি স্বাবলম্বী।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলায় সিডিএ‘র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বর্তমানে ২৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ উদ্যোক্তা সফলভাবে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে দিন দিন এই পরিবেশবান্ধব সারের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাড়ির কাজের পাশাপাশি এটি উৎপাদন করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন এই উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন