পাহাড়ি ঢলে ডুবল বোরো ধান, বিপাকে চাষি
চাষিদের অভিযোগ, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া আধা-পাকা ধানটুকু ঘরে তুলতে নৌকায় করে ধান কাটছেন একজন কৃষক। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরের শত শত হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাব এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক ধান ঘরে তুলতে না পেরে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধান খেত এখন পানির নিচে। মেদীর হাওরের কৃষক সেফুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ভয়ে গত দুই দিন মাঠে নামতে পারিনি, এর মধ্যেই সব জমি তলিয়ে গেছে।’ আরেক কৃষক আইন উদ্দিন জানান, ‘ছয় বিঘা জমি আবাদ করেছি, কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে মাত্র দুই বিঘা কাটতে পেরেছি। বাকিসব ধান এখন পানির নিচে। এই ফসলের ওপরই আমার পরিবারের ভরণ পোষণ নির্ভর করে।’
ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধান ডুবে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নৌকা নিয়ে পানির নিচ থেকে আধা পাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, ‘এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ধান বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও ঢলে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কীভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে।’