হিট জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’র ভিউ ৬ কোটি ৭৩ লাখ ঘণ্টা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’। ছবি: সংগৃহীত
মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’। ইতিমধ্যে নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল নন-ইংলিশ টিভি তালিকায় দ্রুত ওপরে উঠে এসেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে সিরিজটি ৬ কোটি ৭৩ লাখ ঘণ্টা দেখা হয়েছে।
প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে এর দর্শকসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক নন-ইংলিশ টিভি তালিকায় পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে ‘প্লাস্টিক বিউটি’।
সিরিজটির মূল চরিত্র ফুমি নুমাতা, যিনি জরুরি বিভাগের একজন অত্যন্ত দক্ষ সার্জন। ফুমির একটাই উদ্দেশ্য- যেকোনো মূল্যে মানুষের জীবন বাঁচানো। তবে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়ে হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপরই ফুমির ক্যারিয়ারে আসে নতুন মোড়। তিনি যুক্ত হন কসমেটিক অস্ত্রোপচারের জগতে।
সেখানেই ফুমির পরিচয় হয় কসমেটিক সার্জারির দুনিয়ায় ‘হ্যান্ড অব গড’ খ্যাত জনপ্রিয় সার্জন রিন তইয়ামার সঙ্গে। এখান থেকেই শুরু হয় তাদের দর্শনের সংঘাত। ফুমির প্রশ্ন- শারীরিকভাবে সুস্থ মানুষের শরীর কেন বদলাতে হবে? আর রিনের যুক্তি- মানসিক কষ্ট লাঘবে সৌন্দর্যের অস্ত্রোপচার অহেতুক ভোগবিলাস নয়। এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই গল্পে অর্থ, ক্ষমতা ও নৈতিকতার জটিল রূপ নেয়।
সিরিজটির মূল চালিকাশক্তি দুই প্রধান অভিনেত্রী মায়ু মাতসুওকা ও রিসা নাকা। নৈতিকতায় অটল চিকিৎসকের চরিত্রে ‘শপলিফটার্স’ খ্যাত মায়ু এবং কসমেটিক সার্জারিকে আত্মবিশ্বাসের হাতিয়ার মনে করা বলিষ্ঠ চরিত্রে রিসার অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। রটেন টমেটোজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিভিউতে এই দুই অভিনেত্রীর অনস্ক্রিন দ্বৈরথকে সিরিজের অন্যতম প্রধান শক্তি বলা হয়েছে।
ইউকি সাইতো পরিচালিত এবং জুনিয়া ইকেগামির চিত্রনাট্যে নির্মিত এই সিরিজটির পেছনে রয়েছে নির্মাতাদের ব্যাপক গবেষণা। জাপানের কসমেটিক সার্জারি শিল্প নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এটি তৈরি করা হয়েছে।
শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের পেছনে থাকা সামাজিক ও মানসিক চাপকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য।
অবশ্য সাধারণ দর্শকদের মাঝে সিরিজটি নিয়ে তুমুল উন্মাদনা রয়েছে। প্রথাগত ক্রাইম-থ্রিলার বা পারিবারিক ড্রামার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক বাস্তবসম্মত গল্প উপহার দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকেরা সিরিজটির প্রতি নিজেদের গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।