EN ☀️
×

Follow Us

বিনোদন

বাইপোলার ডিসঅর্ডার কেমন? জানতে দেখে নিতে পারেন এই ৫টি চলচ্চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বিশ্বজুড়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি।

সায়মা ইসলাম

সায়মা ইসলাম

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

বাইপোলার ডিসঅর্ডার কেমন? জানতে দেখে নিতে পারেন এই ৫টি চলচ্চিত্র

প্রতীকী ছবি

অ অ

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ (NIMH)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বিশ্বজুড়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ সমস্যাটিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এমকি রোগী নিজেও জানেন না যে সে বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত।

বাইপোলার ডিসঅর্ডার কী?

একসময় 'ম্যানিক ডিপ্রেশন' নামে পরিচিত বাইপোলার ডিসঅর্ডার এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি অস্বাভাবিক উদ্দীপনা (ম্যানিয়া) এবং গভীর বিষণ্নতার (ডিপ্রেশন) মধ্য দিয়ে যান। এই ওঠানামা একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, আচরণ, কর্মক্ষমতা, পারিবারিক সম্পর্ক এমনকি দৈনন্দিন জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা পেলে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। এসব ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাস্তবধর্মীভাবে নির্মিত সিনেমা ও প্রামাণ্যচিত্র দর্শকদের শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের অনুভূতি, সংগ্রাম ও পুনরুদ্ধারের পথও কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, চলচ্চিত্রে যখন মানসিক রোগের সঠিক ও সংবেদনশীল উপস্থাপন করা হয়, তখন দর্শকরা রোগটির প্রকৃতি, উপসর্গ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পান। একই সঙ্গে এটি রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিজেদের অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে, একাকিত্ব কমাতে এবং চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে।

বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আলোচিত পাঁচ চলচ্চিত্র

ম্যাড লাভ (Mad Love)

১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই রোমান্টিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ড্রু ব্যারিমোর ও ক্রিস ও'ডনেল। গল্পে দেখা যায়, এক তরুণী বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কারণে কখনো গভীর বিষণ্নতায়, আবার কখনো চরম উচ্ছ্বাসে ভুগছেন। একটি রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তার মানসিক অবস্থার ওঠানামা তুলে ধরা হয়েছে। কিছু সমালোচক ছবিটিকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করলেও, আবেগগত পরিবর্তন তুলে ধরার জন্য এটি প্রশংসা পেয়েছে।

সিলভার লাইনিংস প্লেবুক (Silver Linings Playbook)

২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এবং একাধিক অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র সিলভার লাইনিংস প্লেবু। এ চলচ্চিত্রে ব্র্যাডলি কুপার অভিনয় করেছেন সদ্য মনোরোগ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত প্যাট চরিত্রে। তার বিপরীতে জেনিফার লরেন্স অভিনীত টিফানিও নিজের মানসিক সংকট নিয়ে লড়াই করেন। দুজনের সম্পর্ক, পারস্পরিক সমর্থন এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রচেষ্টা চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবার, পুনর্বাসন ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরায় এটি বিশেষভাবে প্রশংসিত।

দ্য আওয়ার্স (The Hours)

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভার্জিনিয়া উলফের জীবন ও মানসিক সংগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্র দ্য আওয়ার্স। এখানে বিষণ্নতা ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। উলফের ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং জীবনের নানা ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত এই সিনেমাটি। যেখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে মানসিক অসুস্থতা একজন সৃজনশীল মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং সৃষ্টিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

বয় ইন্টারাপটেড (Boy Interrupted)

এটি একটি হৃদয়বিদারক প্রামাণ্যচিত্র। নির্মাতা ডানা পেরি তার নিজের ছেলে ইভানের জীবনকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেন। অল্প বয়সেই ইভানের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে এবং ১৫ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক ভিডিও, চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার এবং স্বজনদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি মানসিক রোগ, আত্মহত্যার ঝুঁকি এবং পরিবারের ওপর এর গভীর প্রভাব অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে।

অফ টু মাইন্ডস (Of Two Minds)

পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রামাণ্যচিত্রে বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বিভিন্ন মানুষের বাস্তব জীবন তুলে ধরা হয়েছে। রোগটির কারণে সম্পর্ক, কর্মজীবন, পরিবার এবং সামাজিক জীবনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, আবার সঠিক চিকিৎসা ও সমর্থনের মাধ্যমে কীভাবে অনেকে সফল ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন তা এতে তুলে ধরা হয়েছে। রোগটির বহুমাত্রিক বাস্তবতা বোঝার জন্য এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কেন এসব চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ?

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে নির্মিত বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এগুলো সমাজে সচেতনতা বাড়ানো, মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত ভয় ও কুসংস্কার দূর করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অনেক সময় মানুষ নিজের বা পরিবারের কারও আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখেও বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ এসব চলচ্চিত্র দেখার মাধ্যমে অনেকেই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা পান এবং সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, কোনো চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্যচিত্র দেখে নিজের রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়। এগুলো সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যম হলেও সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন