EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

পার্টনার স্কুল নেটওয়ার্কের শ্রেষ্ঠত্ব ও উদ্ভাবন উদযাপন করলো ব্রিটিশ কাউন্সিল

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

পার্টনার স্কুল নেটওয়ার্কের শ্রেষ্ঠত্ব ও উদ্ভাবন উদযাপন করলো ব্রিটিশ কাউন্সিল

ছবি: ব্রিটিশ কাউন্সিল আয়োজিত 'পার্টনার স্কুলস প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬'। সংগৃহীত

অ অ

সারা দেশের বিদ্যালয় প্রধানদের একত্রিত করে বার্ষিক 'পার্টনার স্কুলস প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬'- উদযাপন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সমাবেশে বাংলাদেশের ২১০টিরও বেশি পার্টনার স্কুলের অধ্যক্ষ ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের অবদান উদযাপন এবং তাদের ক্রমবর্ধমান পার্টনার স্কুল নেটওয়ার্ক জুড়ে অসামান্য কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট, পিয়ারসন এডেলসেল এবং অক্সফোর্ডএকিউএ- এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এই নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরীক্ষা ও যোগ্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার একটি মূল অংশ।

বার্ষিক প্রিন্সিপালস মিট হলো বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুল সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানানোর, তাদের সাথে যুক্ত হওয়ার, সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং বিদ্যালয় প্রধানদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা বিনিময়ের সবচেয়ে বড় বার্ষিক প্ল্যাটফর্ম।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড তাঁর বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি বৈশ্বিক পার্টনার স্কুল নেটওয়ার্কের মধ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত ও মানবিক সম্পর্ক জোরদার করতে শিক্ষাবিদ ও বিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সন্ধ্যায় 'ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুলস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬' প্রদান করা হয়। এতে ৬টি ক্যাটাগরিতে স্কুলগুলোর অসামান্য অবদানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো: জলবায়ু সচেতনতা, ডিজিটাল লার্নিং এক্সিলেন্স, সমতা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি (ইডিআই), শিক্ষাদানে নেতৃত্ব, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম।

অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলোর আবেদনপত্র যাচাই করে একটি স্বাধীন বিচারক প্যানেল নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “আজ রাতে আমরা সেই স্কুলগুলোকে উদযাপন করছি যারা শীর্ষে এসেছে। তবে আমি এই কক্ষে উপস্থিত সবাইকে; আপনারা আজ রাতে পুরস্কার পান বা না পান- এই নেটওয়ার্ক নিজের জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, তা নিয়ে গর্বিত হতে উৎসাহিত করব। রবিবার রাতে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা এবং স্বীকৃতি পাওয়া সবাইকে অভিনন্দন।

অংশীদার হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অব্যাহত নিরলস কাজের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “আমাদের পার্টনার স্কুলগুলো কেবল আন্তর্জাতিক শিক্ষা সনদ প্রদানের কেন্দ্রই নয়, তারা শিক্ষাবিদদের এমন একটি সম্প্রদায় যারা প্রতিনিয়ত শিখছেন, নতুনত্ব আনছেন এবং ভালো অভিজ্ঞতাগুলো ভাগ করে নিচ্ছেন। আর ‘প্রিন্সিপালস মিট’ প্রতি বছর আমাদের এই সম্প্রদায়ের কথা শোনার এবং তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ করে দেয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই বছরের পুরস্কারগুলোতে এমন কিছু বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে যা বর্তমান সময়ে স্কুলগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ - যেমন চমৎকার শিক্ষাদান ও ডিজিটাল শিক্ষার দায়িত্বশীল ব্যবহার থেকে শুরু করে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা, অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণ।

এই নেটওয়ার্কটি যাতে বাংলাদেশে সহযোগিতা, পেশাদারিত্বের উন্নয়ন এবং শিক্ষাগত নেতৃত্বের জন্য আরও শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে, সেজন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের পার্টনার স্কুলগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় বলে জানান জুনায়েদ আহমেদ। 

এই 'প্রিন্সিপালস মিট' বিদ্যালয় প্রধানদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা বিষয় আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। যার মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং শিক্ষাদান, শিখন ও মূল্যায়নে এর প্রভাব; আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথ; স্কুলের নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন; সামগ্রিক শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর মানসিক কল্যাণ; এবং স্কুলগুলোর মধ্যে আরও দৃঢ় পারস্পরিক সহযোগিতা।

অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে স্কট ম্যাকডোনাল্ড, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এবং জুনায়েদ আহমেদের সাথে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এর পাশাপাশি 'কন্টিনিউয়িং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট' প্রোগ্রামের সর্বশেষ তথ্য এবং সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষা বিষয়ক একটি সেশনও অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন