EN ☀️
×

Follow Us

মহাকাশ

চাঁদের কোল থেকে তোলা সূর্যগ্রহণ ও পৃথিবীর বিরল ছবি দেখাল নাসা

নভোচারীদের জন্য এ অসাধারণ ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল সূর্যগ্রহণ দেখা, যেখানে সূর্য তার অবস্থান থেকে পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে গিয়েছিল।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

চাঁদের কোল থেকে তোলা সূর্যগ্রহণ ও পৃথিবীর বিরল ছবি দেখাল নাসা

ছবিতে পৃথিবীর অস্তগমন দেখা যাচ্ছে। ছবি: নাসা

অ অ

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের কোল থেকে মানুষের তোলা পৃথিবীর এক অপূর্ব রূপ দেখল বিশ্ববাসী। নাসার ‘আর্টেমিস টু’ মিশনের নভোচারীরা চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে ফেরার পথে পাঠিয়েছেন অবিশ্বাস্য কিছু ছবি, যেখানে ধরা পড়েছে চাঁদের পাহাড়ের আড়ালে পৃথিবীর অস্তগমন এবং মহাকাশ থেকে দেখা এক বিরল সূর্যগ্রহণ।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৪টা ৪১ মিনিট) ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে এই আইকনিক ছবিগুলো তোলা হয়।

নাসার প্রকাশিত প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে ‘আর্থসেট’ বা পৃথিবীর অস্তগমন। চাঁদের এবড়োথেবড়ো ধূসর পাহাড়ের আড়ালে নীল রঙের পৃথিবী ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে- এমন এক দৃশ্য যা ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো-৮ মিশনের বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ ছবির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর অন্ধকার অংশে তখন রাত, আর দিনের অংশে অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা।

ছবির সামনের দিকে ‘ওম’ নামক একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার দেখা যাচ্ছে, যা কোনো বড় মহাকাশীয় বস্তুর আঘাতে তৈরি হয়েছিল।

এ ছবিতে চমৎকার এক সূর্যগ্রহণের দেখা মিলেছে। ছবি: নাসা

আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীদের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা। চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, তখন ওরিয়ন মহাকাশযানের নভোচারীরা সেই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হন।

নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার এই অভিজ্ঞতাকে ‘সায়েন্স ফিকশন’ বা কল্পবিজ্ঞানের মতো বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘চাঁদ এখন সূর্যের সামনে থাকলেও সূর্যের ‘করোনা’ বা সৌরচ্ছটা দেখা যাচ্ছে। এই আলোর বলয়টি পুরো চাঁদের চারপাশে এক অলৌকিক আভা তৈরি করেছে। একদিকে আমাদের চোখের সামনে বিশাল চাঁদ, আর তার পাশেই মহাকাশের অতল অন্ধকারে আমাদের উজ্জ্বল পৃথিবী- দৃশ্যটি সত্যিই বিস্ময়কর।’

নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা যখন চাঁদের উল্টো পাশে অবস্থান করছিলেন, তখন প্রায় ছয় ঘণ্টা পৃথিবীর সঙ্গে তাদের রেডিও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঠিক সেই সময়ই তারা চাঁদকে খুব কাছ থেকে আবর্তন করেন এবং এই ঐতিহাসিক ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। যদিও নাসা আলাদাভাবে জানায়নি কোন ছবিটি কোন নভোচারী তুলেছেন, তবে পুরো দলটি এই মিশনে দারুণ সমন্বয় দেখিয়েছেন।

ছবির সামনের দিকে ‘ওম’ নামের একটি গর্ত দেখা যাচ্ছে। ছবি: নাসা

আর্টেমিস টু মিশনটি মূলত চাঁদে মানুষের পুনরায় পা রাখার একটি প্রস্তুতিমূলক অভিযান। ঠিক যেমনটি ছিল ১৯৬৯ সালের চন্দ্রবিজয়ের আগে ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো ৮ মিশন। এই মিশনের সফল সমাপ্তি এবং সংগৃহীত তথ্য ও ছবিগুলো ভবিষ্যতে মানুষকে আবারও চাঁদের মাটিতে নামিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছে নাসা।

মহাকাশের অন্ধকার পটভূমিতে আমাদের ছোট এই নীল গ্রহের ‘অসহায় অথচ সুন্দর’ এই রূপটি আরও একবার বিশ্ববাসীকে পরিবেশ ও পৃথিবী রক্ষায় সচেতন হতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন