EN ☀️
×

Follow Us

মহাকাশ

ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস টু: পৃথিবী থেকে এত দূরে আর কখনো যায়নি মানুষ

এর আগে এ রেকর্ডটি ছিল ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীদের দখলে। তারা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ এএম

ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস টু: পৃথিবী থেকে এত দূরে আর কখনো যায়নি মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন মাইলফলক। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ভেঙে গেল অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া মানুষের সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে দূরতম পথ অতিক্রম করার এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্বে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সোমবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলটি আরও ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে যায়। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরে অবস্থান করছে। এই অভিযানে রয়েছেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

অভিযানের ষষ্ঠ দিনে নভোচারীদের জন্য এক সারপ্রাইজ অডিও বার্তা পাঠানো হয়। এটি ছিল অ্যাপোলো-৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত কিংবদন্তি নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা বার্তা।

তিনি গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে এই নতুন প্রজন্মের জন্য বলে গেছেন, ‘আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম! আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছো।’

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে যখন নভোচারীরা মহাকাশযান থেকে দেখা দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণের প্রস্তাব দেন।

একটি গহ্বরের নাম রাখা হয়েছে ‘ইন্টেগ্রিটি’, যা তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে।

অন্যটির নাম রাখা হয়েছে ‘ক্যারল’। এটি মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে, যিনি ২০২০ সালে ক্যান্সারে মারা যান।

এই ঘোষণার সময় নভোচারীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন এবং হিউস্টন কন্ট্রোল রুমে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বর্তমানে নভোচারীরা চাঁদের মহাকর্ষীয় বলয়ে রয়েছেন এবং তারা চাঁদের রহস্যময় উল্টো পিঠ বা ‘ফার সাইড’ প্রদক্ষিণ করবেন। চাঁদের ওই অংশে থাকার সময় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবে। একে বলা হচ্ছে এক গভীর নিঃসঙ্গতার মুহূর্ত। পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বিশ্ববাসীকে অনুরোধ করেছেন এই সময়টুকু যেন সবাই প্রার্থনা ও শুভকামনার মাধ্যমে একতাবদ্ধ থাকেন।

নাসার এই বহু বিলিয়ন ডলারের আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য কেবল রেকর্ড গড়া নয়, বরং ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে পুনরায় নভোচারী নামানো। নাসা চায় চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে কাজ করবে।

এই মিশনে আরও বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ পেরিয়ে এত দূরে যাওয়ার ইতিহাস গড়লেন।

আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন