EN ☀️
×

Follow Us

মহাকাশ

আর্টেমিস-২ অভিযানের নেপথ্য লক্ষ্য কী?

চাঁদে পুনরায় ফিরে যাওয়া কেবল একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পরীক্ষা।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

আর্টেমিস-২ অভিযানের নেপথ্য লক্ষ্য কী?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

১৯৬৯ সালে নাসা যখন প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল, তখনকার পুরো টিমের কাছে যে কম্পিউটিং ক্ষমতা ছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী প্রযুক্তি এখন আপনার হাতের স্মার্টফোনটিতে আছে। তবুও মহাকাশ বিজ্ঞানের এই চরম উন্নতির যুগে এসেও কেন চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে?

যেখানে ৫০ বছর আগেই আমেরিকা এই সাফল্য অর্জন করেছিল, সেখানে আজ কেন এতো দেরি আর এতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা? প্রযুক্তির অভাব নাকি এর পেছনে কাজ করছে বিশ্বরাজনীতি ও বিশাল বাজেটের সমীকরণ।

অ্যাপোলো মিশন ছিল মূলত ‘শীতল যুদ্ধের’ ফসল। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় হারানোই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। সেই সময় মার্কিন সরকার তাদের মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ নাসাকে বরাদ্দ দিয়েছিল। বর্তমানে সেই বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩৫ শতাংশে।

আর্টেমিস প্রকল্প কেবল চাঁদে পা রাখার জন্য নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং চন্দ্র কক্ষপথে মহাকাশ স্টেশন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এটি মূলত মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানববাহী অভিযানের একটি ‘টেস্ট বেড’ বা পরীক্ষাগার।

অ্যাপোলোর মডেলটি দীর্ঘমেয়াদী বা টেকসই ছিল না। অত্যাধিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে ১৯৭২ সালের পর চন্দ্রাভিযান বন্ধ হয়ে যায়। নাসা এখন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (যেমন স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন) মাধ্যমে কাজ করছে, যা আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হলেও আমলাতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে আর্টেমিস-২ এর উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে তা পিছিয়ে গেছে।

চাঁদে পুনরায় যাওয়ার পেছনে এখন আর কেবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নেই, বরং যোগ হয়েছে খনিজ সম্পদের সমীকরণ। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে থাকা দুর্লভ ধাতু এবং জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই।

১৯৬৭ সালের জাতিসংঘ মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী কেউ চাঁদের মালিক হতে না পারলেও, যে দেশ আগে সেখানে পৌঁছাবে, তারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সুবিধা পাবে। নাসা চাইছে ২০৩০ সালের চীনের পরিকল্পিত অভিযানের আগেই নিজেদের আধিপত্য নিশ্চিত করতে।

আর্টেমিস-২ মিশনে রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচসহ চার নভোচারী চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবে তারা চাঁদের রহস্যময় ‘অন্ধকার অংশ’ সশরীরে পর্যবেক্ষণ করবেন। রোবটিক মিশনগুলো সেখানে গেলেও মানুষের চোখে এই অংশটি দেখার অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ আলাদা।

চাঁদে পুনরায় ফিরে যাওয়া কেবল একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পরীক্ষা। যদিও ২০২৮ সালের সময়সীমাটি গবেষকদের মতে ‘উচ্চাভিলাষী’, তবুও আর্টেমিস মিশন সফল হলে তা মানবজাতির জন্য কেবল চাঁদে ফেরার গল্প হবে না, বরং নক্ষত্রলোকের দিকে পা বাড়ানোর স্থায়ী এক সোপান তৈরি করবে।

আরও পড়ুন