সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বন্ধ বিশ্বের বহু সাইট, বাংলাদেশও ঝুঁকিতে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত ক্ষতিকর কোড চালানো এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরির বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উইকিপিডিয়ার কিছু অংশ এবং বিবিসির কয়েকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসহ বিশ্বের বহু সাইট তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডব্লিউআইজেড’-এর গবেষকদের বরাতে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) মেমোরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত এই ত্রুটি দুটি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বজুড়ে সচল থাকা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ এবং মোট ওয়েবসাইটের প্রায় ৬৯ শতাংশই পিএইচপিনির্ভর হওয়ায় এই হুমকির ব্যাপ্তি ব্যাপক।
যুক্তরাজ্যে একজন মন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, সমস্যাগুলো সমাধান করার প্রক্রিয়া চলাকালীন সরকারের ৩২টি সেবা সম্পূর্ণরূপে এবং ৪টি সেবা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ইন্টারনেট অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে যে, তারা তাদের নেটওয়ার্কে ‘লাখ লাখ’ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা দেখতে পেয়েছে। তবে এই হামলাগুলো সফল হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বাংলাদেশও এ ঝুঁকির বাইরে নয় বলে সতর্ক করেছেন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট (BGD e-Gov CIRT) বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিশেষ নির্দেশনায় দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেছে।
সংস্থাটি জানায়, প্রথমে সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণের তালিকা করে অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারে ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, নির্দিষ্ট আইপি (আইপি) ঠিকানা ব্যবহার এবং অননুমোদিত সংযোগ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মতো সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সার্ট।
ইতোমধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
বেসরকারি হোস্টিং প্রতিষ্ঠান লিমডা হোস্টের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জুনাইদ মিয়াজী জানান, তাদের গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ ওয়েবসাইটই পিএইচপিভিত্তিক। তবে খবর পাওয়ার পরপরই তারা সার্ভারে সংশোধিত প্যাচ প্রয়োগ করেছেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক ইমরান হোসেন জানান, শুধু ফায়ারওয়েল বা পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পিএইচপি সংস্করণ যাচাই করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ এবং সার্ভার লগ পরীক্ষা করা জরুরি।
