সিম ছাড়াই কি চলবে স্টারলিংক মোবাইল?
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
স্টারলিংক মোবাইলের জন্য স্পেকট্রাম কিনছে স্পেসএক্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম বাজারে বড় মোবাইল অপারেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেইন ম্যানেজমেন্ট’-এর দেশব্যাপী বিস্তৃত ৮০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম (রেডিও তরঙ্গ) পোর্টফোলিওর শতভাগ কিনে নেওয়ার চুক্তি সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি। চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন’ -এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, এই কৌশলগত চুক্তির আওতায় তারা ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১৪ মেগাহার্টজ পর্যন্ত লো-ব্যান্ড স্পেকট্রামের মালিকানা পাবে। কোম্পানির দাবি, এই তরঙ্গ হাতে এলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্টারলিংক মোবাইল’ সেবা চালুর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রযুক্তিগত বাধা দূর হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, লো-ব্যান্ড স্পেকট্রামের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা সহজেই বহুতল ভবনের দেয়াল বা যেকোনো কঠিন বাধা ভেদ করতে পারে। ফলে গ্রাহকেরা ঘরের ভেতরেও নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবেন। এছাড়া, বাজারে থাকা সাধারণ স্মার্টফোনগুলোর বেশিরভাগই এই ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ সমর্থন করে। ফলে গ্রাহকদের বর্তমান হ্যান্ডসেট পরিবর্তন না করেই লাখ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে স্টারলিংক মোবাইল সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বের প্রথম ‘হাইব্রিড’ অপারেটর
মোবাইল অপারেটর হিসেবে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে এটিই স্পেসএক্সের প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে ‘ইকোস্টার’-এর কাছ থেকে ২ গিগাহার্টজ মিড-ব্যান্ড স্পেকট্রাম লাইসেন্স কিনেছিল তারা, যা মূলত উচ্চ গতি ও বেশি ডেটা সরবরাহে ব্যবহৃত হবে।
নতুন কেনা এই নিম্ন-তরঙ্গ এবং তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের (Gen-2) স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্টারলিংক মোবাইল হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম অপারেটর—যারা একই সাথে মহাকাশের স্যাটেলাইট এবং ভূপৃষ্ঠের মোবাইল টাওয়ারের (টেরেস্ট্রিয়াল) স্পেকট্রাম ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সেবা দেবে।
১০০ গুণ বেশি গতির স্যাটেলাইট
এই চুক্তির মাত্র কয়েক দিন আগে ২ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহারের উপযোগী ১৫ হাজার স্টারলিংক মোবাইল ‘জেন-২’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে এফসিসি। স্পেসএক্সের দাবি, নতুন এই স্যাটেলাইটগুলো বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে ১০০ গুণেরও বেশি ব্যান্ডউইথ বা গতি দিতে সক্ষম। এর ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অতি-উচ্চগতির ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
প্রযুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের বর্তমান সাধারণ স্মার্টফোন দিয়েই সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে বাণিজ্যিক উদ্বোধনের পর সিম কার্ডের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি দূর হবে কি না, তা এফসিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই স্পষ্ট জানা যাবে।