এআই এজেন্টেও লিঙ্গ বৈষম্য, নারী বটের পারিশ্রমিক কম
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ভিআর অফিসে নারী এআই এজেন্টের পারিশ্রমিক কম, বলছে গবেষণা। ছবি: রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সহকারীর বেলায়ও কর্মক্ষেত্রের লিঙ্গবৈষম্য ছড়িয়ে পড়ছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিকের গবেষকেরা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) অফিসের পরিবেশে ১৮৯ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাতে দেখা গেছে, প্রযুক্তি হুবহু এক হওয়া সত্ত্বেও নারী এআই এজেন্ট একই কাজের জন্য পুরুষ এজেন্টের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা ‘যোহান’ নামের এক পুরুষ ও ‘জোয়ানা’ নামের এক নারী এআই এজেন্টের সঙ্গে কাজ করেন। তাঁরা যোহানকে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়ার পাশাপাশি তাকে জোয়ানার চেয়ে বেশি মানবসুলভও মনে করেন।
গবেষণার সহ-লেখক ডা. মেরি হাউজফেল্ড বলেন, ‘এআই এজেন্টগুলোর ভেতরের প্রযুক্তি হুবহু একই ছিল। তবে মানুষ এদের সঙ্গে একরকম আচরণ করেননি। আমরা এআইকে নিরপেক্ষ মনে করলেও এসব সিস্টেম যেভাবে ডিজাইন ও উপস্থাপন করা হয়, তা অনুমান ও আগাম সংস্কারকে উসকে দিতে পারে।’
গবেষকদের মতে, এ ফলাফল কর্মক্ষেত্রের বাস্তব বৈষম্যেরই প্রতিফলন। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর দেশটিতে কর্মীদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বেতনের ব্যবধান ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সমান যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার নারী-পুরুষ একই ধরনের চাকরি করলেও তাঁদের বেতনের ব্যবধান থাকে ১ থেকে ২ শতাংশ।
আইটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসিলেরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে। ফলে এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
ডা. হাউজফেল্ড আরও বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্টের ব্যবহার যত বাড়ছে, আমাদের সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে, আমরা এদের কী ধরনের বৈশিষ্ট্য দিচ্ছি। আমরা কোনোভাবেই চাই না, নতুন প্রযুক্তির ছদ্মবেশে সমাজের বৈষম্যগুলোই আবার তৈরি হোক।’
‘হিউম্যান-লাইক অ্যান্ড মেল? হাউ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজাইন রিলেটস টু ট্রাস্ট অ্যান্ড মনিটারি রিওয়ার্ড অ্যাট ওয়ার্ক ইন ভিআর’ শিরোনামের গবেষণাটি ফিনল্যান্ডের ভাসা শহরে ‘হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন’-এর ১৪তম নর্ডিক সম্মেলনে উপস্থাপিত হবে।