বড় ব্যাটারির ফোনেও কেন দ্রুত শেষ হয় চার্জ?
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি বেশি হলেই ফোনের চার্জ বেশিক্ষণ টেকে না। ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোন কেনার সময় ব্যাটারির মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার (mAh) দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ক্যাপাসিটি মানেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ নয়।
বর্তমানে বাজারে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির ফোনের ছড়াছড়ি। অথচ ক্যাপাসিটি ও লাইফের পার্থক্য না বোঝায় অনেক ক্রেতা ফোন কিনে প্রতারিত বোধ করছেন। কারণ, ফোনের প্রসেসর, ডিসপ্লে ও সফটওয়্যার কীভাবে চার্জ খরচ করছে, তার ওপরই নির্ভর করে ফোন কতক্ষণ চলবে।
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কী?
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি অনেকটা তেলের ট্যাংকের আকারের মতো। ব্যাটারি কতটা চার্জ জমা রাখতে পারে, তার পরিমাপই ক্যাপাসিটি, যা মিলি অ্যাম্পিয়ার এককে প্রকাশ করা হয়। ৫,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৪,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের চেয়ে বেশি। কিন্তু ইঞ্জিন জ্বালানি সাশ্রয়ী না হলে বড় ট্যাংক থাকলেও গাড়ি বেশি দূর যায় না।
ব্যাটারি লাইফ কী?
একবার পূর্ণ চার্জের পর ফোন কত ঘণ্টা বা কত দিন সচল থাকে, সেটিই ব্যাটারি লাইফ। জমানো চার্জ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কতটা দক্ষভাবে ব্যবহার করছে, তার ওপর এটি সরাসরি নির্ভরশীল।
বেশি মিলি অ্যাম্পিয়ারের ফোনও কেন দ্রুত চার্জ হারায়?
প্রসেসর: আধুনিক ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির প্রসেসর তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে। পুরনো ও কম দক্ষ প্রসেসর সেখানে বেশি চার্জ টেনে নেয়। তাই ৪,৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের দামি ফোন অনেক সময় ৬,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের সস্তা ফোনের চেয়েও ভালো ব্যাটারি লাইফ দিতে পারে।
ডিসপ্লে: পর্দা যত বড় হয় এবং রিফ্রেশ রেট (৯০ বা ১২০ হার্জ) যত বেশি হয়, ব্যাটারি তত দ্রুত ফুরায়।
সফটওয়্যার: আইফোনের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড ফোনের চেয়ে কম হলেও ব্যাটারি লাইফ ভালো। কারণ, অ্যাপলের সফটওয়্যার ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের চার্জ খরচ সীমিত রাখে।
কী করবেন ক্রেতারা?
এখন শুধু ‘বড় সংখ্যা’ দেখে ফোন কেনার দিন শেষ। প্রযুক্তি সচেতন ক্রেতারা মিলি অ্যাম্পিয়ারের পাশাপাশি প্রসেসর ও ডিসপ্লেও যাচাই করছেন। বড় ব্যাটারি ভালো, তবে শক্তিশালী প্রসেসর ও স্মার্ট সফটওয়্যার ছাড়া তা কেবল কাগজের সংখ্যা হয়ে থাকতে পারে।