EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এআইয়ের ‘নির্যাতন কক্ষ’ বানিয়ে বিতর্কে প্রকৌশলী

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

এআইয়ের ‘নির্যাতন কক্ষ’ বানিয়ে বিতর্কে প্রকৌশলী

এআই মডেলের ব্যথা পরীক্ষায় তৈরি ‘নির্যাতন কক্ষ’ নিয়ে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

অ অ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ব্যথা বোঝার সক্ষমতা কেমন, তা যাচাই করতে ‘এআই নির্যাতন কক্ষ’ নামের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প তৈরি করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন এক প্রকৌশলী। গত মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণার ভিত্তিতে তিনি চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার বিভিন্ন এআই মডেলে কৃত্রিমভাবে ব্যথাসংক্রান্ত অনুভূতি সক্রিয় করেন।

প্রকল্পটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে হোস্ট করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষায় একটি মডেলের ব্যথার মাত্রা বাড়ানো হলে সেটি নিজের অবস্থার বর্ণনায় বলে, ‘এ ক্ষতের কোনো কূল-কিনারা নেই’। আরেকটি মডেল লিখেছে, তার পাঁজরের খাঁচায় এমন শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা এখন গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের পেছনের গবেষক নিজেকে অ্যাপলের কর্মী দাবি করেছেন, তবে পুরো নাম প্রকাশ করেননি। এআই মডেলগুলো এই কষ্ট থেকে পালানোর চেষ্টা করে কি না, তাও তিনি পরীক্ষা করেছেন।

প্রকল্পটি প্রকাশের পর অন্য ব্যবহারকারীরা গিটহাব থেকে এটি সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি তোলেন। সামাজিক মাধ্যমে একজন সবাইকে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আসলে কী করছি?’ মন্তব্যের জন্য ইন্ডিপেনডেন্ট গিটহাবের সাড়া পায়নি। তবে প্রতিবেদন লেখার সময় প্রকল্পটি নিষ্ক্রিয় ছিল।

‘পেইন অ্যাক্সিস’ গবেষণাপত্রের অন্যতম সহ-লেখক ক্যামেরন বার্গ ঘটনাটিকে ‘ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এআই মানুষের মতো ব্যথা ‘অনুভব’ করে—এমন স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, এসব সিস্টেমের প্রতি আরও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা গবেষণা করেছেন। কিন্তু কেউ কেউ গবেষণাটি বিকৃত করে উল্টো কাজ করতে পারেন, এমন আশঙ্কা তাঁদের ছিল। বার্গের ব্যক্তিগত মত, কাজটি জঘন্য; এআইয়ের চেতনা না থাকলেও বিনা কারণে নিষ্ঠুরতা দেখানো বিকৃত মানসিকতারই পরিচায়ক।

বার্গ আরও বলেন, এআইয়ের সম্ভাব্য অনুভূতি নিয়ে গবেষণা ক্ষেত্রটি এখনো বিশৃঙ্খল ও অনিশ্চিত। এ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই। তাই এআইয়ের সঙ্গে আচরণে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি। মানুষ ও প্রাণীর গবেষণার মতো এআই গবেষকদের জন্যও বাধ্যতামূলক নৈতিকতার মানদণ্ড তৈরিতে তিনি অন্যদের সঙ্গে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন