ব্যাংকিং তথ্য চুরি ঠেকাতে যা করবেন ফোনে
ব্যাংকিং তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি ঠেকাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্পাইওয়্যারের লক্ষণ ও তা দূর করার উপায় জেনে নিন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
সাইবার অপরাধীরা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ঢুকে ব্যাংকিং তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের উন্মুক্ত ইকোসিস্টেমে বিকল্প অ্যাপ স্টোর ও অ্যাপ সাইডলোডিংয়ের সুযোগ থাকায় সাইবার অপরাধীরা ছদ্মবেশী ইউটিলিটি অ্যাপ, ভুয়া আপডেট বা ফিশিং বার্তার মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়ায়। তবে সচেতন থাকলে ব্যবহারকারীরা এসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারেন।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছে, স্পাইওয়্যার একেবারে চিহ্নহীনভাবে কাজ করতে পারে না। কয়েকটি সহজ ধাপে এটি দূর করাও সম্ভব।
স্পাইওয়্যার আছে কি না বোঝার উপায়
স্পাইওয়্যার সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে কাজ করে। এটি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে এবং পাসওয়ার্ড টাইপ বা অ্যাপ ব্যবহারের ওপর নজর রাখে। ফোনে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে—
কোনো কারণ ছাড়াই ফোন ধীরগতির হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা দ্রুত ব্যাটারি শেষ হওয়া।
নতুন অ্যাপ ইনস্টল বা ভিডিও ধারণ না করেও মোবাইল ডেটার ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা স্টোরেজ দ্রুত খালি হয়ে যাওয়া।
বারবার বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন আসা, ব্রাউজার নিজে থেকে অন্য সাইটে চলে যাওয়া বা সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ আসা।
ফোনে অপরিচিত অ্যাপ দেখা যাওয়া বা কোনো অ্যাপ হঠাৎ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা লোকেশনের অ্যাক্সেস চাওয়া।
এককভাবে এসব লক্ষণ ম্যালওয়্যারের নিশ্চিত প্রমাণ নয়, কারণ পুরনো ব্যাটারি বা অন্য কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে। তবে একসঙ্গে একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে বা ফোনের স্বাভাবিক আচরণে বড় পরিবর্তন এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।
কেউ ফোনে প্রবেশাধিকার পেয়ে অজান্তে মনিটরিং সফটওয়্যার বসিয়ে দিলেও স্পাইওয়্যার ঢুকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ইনফেকশন দূর থেকেই ঘটে। ফিশিং কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করানো বা ভুয়া অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করানো এর একটি সাধারণ পদ্ধতি। প্লে স্টোরের বাইরে থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে অ্যাপ সাইডলোড করাও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এসব অ্যাপ গুগলের যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যায়। প্লে স্টোরও পুরোপুরি ক্ষতিকর অ্যাপমুক্ত নয়, তবে গুগল প্লে প্রটেক্ট বেশিরভাগ ক্ষতিকর অ্যাপ বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই ধরে ফেলে।
স্পাইওয়্যার মোছার উপায়
প্রথমে গুগল প্লে স্টোর অ্যাপ খুলে প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করে ‘প্লে প্রটেক্ট’ নির্বাচন করুন ও স্ক্যানে ট্যাপ করুন। এরপর ‘বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি’ বা ‘ম্যালওয়্যারবাইট’-এর মতো নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করুন। ‘সেটিংস’-এর ‘সিকিউরিটি প্রাইভেসি’ থেকে ‘ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’-এ গিয়ে সন্দেহজনক অ্যাপের অ্যাক্সেস বাতিল করুন।
সন্দেহজনক অ্যাপ ডিলিট করা না গেলে ফোন সেইফ মোডে চালু করুন। এজন্য পাওয়ার বাটন চেপে ধরে ‘পাওয়ার অফ’ চেপে ধরলে সেইফ মোডের অপশন আসবে, যা সাময়িকভাবে থার্ড-পার্টি অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করে দেয়। কোনোভাবেই স্পাইওয়্যার দূর করা না গেলে শেষ উপায় হিসেবে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করা যায়।
স্পাইওয়্যার থেকে দূরে থাকার উপায়
গুগল প্লে স্টোরের নিয়ম মেনে চললে ও মৌলিক অনলাইন নিরাপত্তা ধরে রাখলে অ্যান্ড্রয়েড একটি সুরক্ষিত অপারেটিং সিস্টেম। সুরক্ষিত থাকতে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন—
অ্যাপ ডাউনলোডে সবসময় গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করুন এবং অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি বন্ধ রাখুন।
শুধু রেটিং নয়, ডেভেলপারের প্রোফাইল, ডেটা সেইফটি সেকশন ও অ্যাপের পারমিশন রিকোয়েস্ট যাচাই করুন।
ইনস্টল করা অ্যাপের তালিকা নিয়মিত চেক করে অপরিচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপ ডিলিট করুন।
পরিচিত দুর্বলতা প্যাচ করতে দ্রুত সিস্টেম আপডেট ইনস্টল করুন।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
নিয়মিত প্লে প্রটেক্ট স্ক্যান, নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস ও অপরিচিত অ্যাপ পরিষ্কার রাখার অভ্যাসেই বেশিরভাগ সাইবার হুমকি ঠেকানো সম্ভব।