EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ফোন স্লো হলেই কি ক্যাশ ডেটা মুছবেন?

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

ফোন স্লো হলেই কি ক্যাশ ডেটা মুছবেন?

ক্যাশ ডেটা মুছে ফেললেই ডিভাইসের গতি সবসময় বাড়ে না, বরং তা সাময়িকভাবে কাজ ধীর করে দিতে পারে।

অ অ

মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা স্ট্রিমিং ডিভাইস ধীরগতির হয়ে পড়লে অনেকে ক্যাশ ডেটা মুছে ফেলার পরামর্শ দেন। তবে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্যাশ ডেটা মোছা সবসময় ডিভাইসের গতি বাড়ায় না।

সফটওয়্যার বা অ্যাপের একটি সাময়িক মেমোরি হলো ক্যাশ। প্রতিবার ব্যবহারের সময় নতুন করে ফাইল ডাউনলোড না করে অ্যাপ যাতে তথ্য দ্রুত ব্যবহার করতে পারে, সেজন্যই ক্যাশ ডিজাইন করা হয়েছে।

ডিভাইসের স্টোরেজে তীব্র জায়গার সংকট দেখা দিলে এই সঞ্চিত তথ্য সমস্যা তৈরি করে। তখনই কেবল ক্যাশ ডেটা মোছা কার্যকর হয়। অকারণে ক্যাশ ডেটা মুছে দিলে সফটওয়্যারকে একই তথ্য আবার নতুন করে ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এতে সময় ও প্রসেসিং ক্ষমতার অপচয় হয়।

কীভাবে কাজ করে ক্যাশ

ক্যাশ হলো এমন কিছু তথ্যের অস্থায়ী ভাণ্ডার, যা সফটওয়্যার বা অ্যাপ ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের জন্য জমিয়ে রাখে। যেমন, ওয়েব ব্রাউজার ওয়েব পেইজের বিভিন্ন ছবি বা উপাদানের অনুলিপি সংরক্ষণ করে।

ব্যবহারকারী একই ব্রাউজার বা পেইজে বারবার ফিরে এলে ব্রাউজার নতুন করে ডেটা ডাউনলোড না করে আগে সেইভ করা উপাদান সরাসরি ব্যবহার করে। এতে পেইজ দ্রুত লোড হয়।

অন্য অ্যাপের ক্ষেত্রেও নীতি একই। তবে কোন অ্যাপ কী ধরনের ডেটা জমাবে তা ভিন্ন হয়। যেমন, গান শোনার একটি স্ট্রিমিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর ঘন ঘন শোনা প্লেলিস্ট ক্যাশে জমিয়ে রাখে, যাতে অ্যাপ খুললেই গান সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আবার সম্প্রতি দেখা পেইজ বা প্রোফাইলের থাম্বনেইল সংরক্ষণ করে রাখে।

ডিভাইসে অনেক ক্যাশ জমা হওয়ার অর্থ এই নয় যে সিস্টেমে ত্রুটি আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমে থাকা এই ডেটা তার নির্ধারিত কাজটিই ঠিকভাবে করে। এ ছাড়া পুরো ডিভাইসের জন্য একটিমাত্র ক্যাশ থাকে না। ব্রাউজার, আলাদা অ্যাপ ও পুরো অপারেটিং সিস্টেমের ক্যাশ আলাদা আলাদা, তাই মোছার নিয়মও ভিন্ন।

ক্যাশ মুছলে সাময়িক ধীরগতি হতে পারে

ক্যাশ ডেটা মুছে ফেলা মানে অ্যাপের ব্যবহৃত দ্রুতগতির ‘শর্টকাট’ মুছে দেওয়া। অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেম পরে সেই ক্যাশ আবার তৈরি করলেও নতুন তথ্য ইন্টারনেট থেকে আনার আগ পর্যন্ত ডিভাইসের কাজ ধীরগতির থাকে।

গুগল নিজেদের ক্রোম ব্রাউজারের ক্যাশ ও কুকি মোছার নির্দেশনায় বিষয়টি জানিয়েছে। ক্যাশ ফাইল মুছে ফেলার পর বড় আকারের ছবির মতো ভারী কনটেন্ট নতুন করে লোড করতে হয় বলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুলতে বেশি সময় লাগতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ক্যাশ মোছা একেবারে অকার্যকর। জমে থাকা পুরোনো ডেটা কোনো পেইজ বা অ্যাপ লোডিংয়ে জটিলতা তৈরি করলে নতুন ডেটা আনতে ক্যাশ ক্লিয়ার করা কাজে আসে। যেমন, ডিভাইসে থাকা ভিডিওর ক্যাশ ফাইল নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিকভাবে চলে না।

ক্যাশ মুছলে ডিভাইসের স্টোরেজ খালি হয়, তবে এটি অ্যাপের গতি বাড়ানোর বিষয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মূল সমস্যা ক্যাশ ফাইলের কারণে না হলে তা মুছলেও সমাধান মেলে না। আবার স্টোরেজের এই সুবিধা বেশিদিন স্থায়ী হয় না, কারণ অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ক্যাশ তৈরি হতে থাকে।

কখন ক্যাশ মোছা উচিত

নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানের জন্যই ক্যাশ ক্লিয়ার করা সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। কোনো ওয়েবসাইট ঠিকমতো না খুললে বা ফরম্যাট ভেঙে গেলে গুগল ব্রাউজারের ক্যাশ ক্লিয়ারের পরামর্শ দেয়।

কোনো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ কাজ না করলে অন্য অ্যাপে হাত না দিয়ে শুধু সেই অ্যাপের সাময়িক ডেটা মুছলেই একই সমাধান মেলে। প্লেস্টেশন ৫-এ পারফরম্যান্স কমে গেলে বা ফিচার সমস্যা দেখা দিলে ‘সেইফ মোড’ ব্যবহার করে সিস্টেম সফটওয়্যারের ক্যাশ ক্লিয়ারের সুবিধা দিয়েছে সনি।

তবে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান হিসেবে এমনটা করার কথা বললেও নিয়মিত রুটিন হিসেবে ক্যাশ ক্লিয়ারের পরামর্শ দেয় না সনি। অ্যাপ, ব্রাউজার বা ডিভাইস স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে এবং স্টোরেজের সংকট না থাকলে নিয়ম করে ক্যাশ মোছার প্রয়োজন নেই।

ক্যাশ, কুকিজ ও অ্যাপ ডেটা এক জিনিস নয়

একসঙ্গে ডেটা ক্লিনিং অপশন ব্যবহার করতে গেলে শুধু ‘ক্যাশ ক্লিয়ার’ বলাটি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে। ক্রোম ব্রাউজার ছবির ক্যাশ ও ফাইলকে কুকিজ, ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও সাইট তথ্যের চেয়ে আলাদা হিসেবে গণ্য করে। কুকিজ ব্যবহারকারীর লগ-ইন ও সাইট প্রেফারেন্স মনে রাখে, আর ক্যাশ ফাইল পেইজের উপাদান পুনরায় ব্যবহারের জন্য জমিয়ে রাখে।

অ্যান্ড্রয়েডে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট। এর স্টোরেজ কন্ট্রোলে ‘ক্যাশ ক্লিয়ার’ ও ‘স্টোরেজ ক্লিয়ার’ আলাদা অপশন হিসেবে রাখা হয়েছে। স্টোরেজ ক্লিয়ার করলে অ্যাপের সব ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে যায়, যদিও সেটিংসে দুটি বাটন কাছাকাছি থাকে।

আইফোনের সাফারি ব্রাউজারে হিসাব ভিন্ন। হিস্ট্রি ও ডেটা মোছার সময় ‘হিস্ট্রি অ্যান্ড ওয়েবসাইট ডেটা’ নির্বাচন করলে ব্রাউজিং হিস্ট্রি, ক্যাশ ও কুকিজ একসঙ্গে মুছে যায়। তবে হিস্ট্রি রেখে শুধু নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ডেটাও আলাদাভাবে মোছা যায়।

তাই ডিভাইসের ‘ডিলিট’ বা ‘ক্লিয়ার’ বাটনে চাপার আগে কোন ক্যাটেগরি নির্বাচিত আছে তা যাচাই করা জরুরি। ক্যাশ ফাইল সাময়িক হলেও কুকিজ, ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও অ্যাপ ডেটায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা থাকতে পারে। ভুল অপশন বাছাই করলে তা সাধারণ ক্যাশ মোছার চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন