ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবন বাঁচাবে আরশোলা, দেবে জরুরি চিকিৎসা
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জরুরি চিকিৎসা দিতে ক্যামেরা ও ইনজেক্টরযুক্ত সাইবর্গ আরশোলা বানালেন অস্ট্রেলীয় গবেষকরা
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের কাছে জরুরি চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছে সাইবর্গ আরশোলা ‘প্যারাবর্গ’।
অস্ট্রেলিয়ার একদল বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী আরশোলার শরীরে ক্যামেরা ও ক্ষুদ্র মেডিকেল ইনজেক্টর বসিয়ে তৈরি করেছেন ছয় পায়ের ‘সাইবর্গ পতঙ্গ’, নাম ‘প্যারাবর্গ’। ভূমিকম্প বা ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পৌঁছে দিয়ে জীবন বাঁচানোই এর লক্ষ্য। এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির (ইউএনএসডব্লিউ) গবেষকরা যৌথভাবে এ প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেন, তারা সাইবর্গ পতঙ্গকে শুধু সেন্সর না রেখে জরুরি উদ্ধারকারীতে পরিণত করছেন। তবে জটিল চিকিৎসা সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের গর্ত খোঁড়া আরশোলার শরীরে হালকা ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ক্যামেরা ও দূর নিয়ন্ত্রিত অটো-ইনজেকশন ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার সফলতার হার ৯৫ শতাংশ। তবে পুরো নেভিগেশন ও ইনজেকশন প্রক্রিয়ায় সফলতা ৭২ শতাংশ।
গবেষক হাই নান লে বলেন, আরশোলাকে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। বড় আরশোলা দ্রুত এগিয়ে এলে অস্বস্তি লাগতে পারে, তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকলে এই প্রযুক্তি জীবন বাঁচাতে পারে। ইলেকট্রোড বসানোর সময় আরশোলাগুলোকে অচেতন করা হয় এবং কাজ শেষে ডিভাইস সরিয়ে নিলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়।
নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউর প্রধান টিম হাসিওটিস বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ধার দলের সক্ষমতা অনেক বাড়াবে। সংকীর্ণ স্থানে ঢুকে আহতদের শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে এটি শহরের উদ্ধার অভিযানে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
থাং ভো-ডোয়ান জানান, দীর্ঘমেয়াদে তারা সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো একটি ঝাঁক নামাতে চান, যেখানে প্রতিটি পতঙ্গ একে অপরের পরিপূরক হবে। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল দেখা যাবে বলে তার প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন