EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

প্রতারণা ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই চালিত ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০ পিএম

প্রতারণা ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই চালিত ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’

ব্যবহারকারীদের সাইবার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হচ্ছে এআই-ভিত্তিক ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ ফিচার।

অ অ

প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যুক্ত করতে যাচ্ছে এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত বার্তার সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে; কোনো বার্তা মেটা বা অন্য কারও কাছে পৌঁছাবে না।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সিনেট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ নামের এই ফিচারটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এটি ব্যবহারকারীর ফোনে থাকা ‘অন-ডিভাইস’ মেশিন লার্নিং মডেলের সাহায্যে সম্ভাব্য প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করবে।

এই সুবিধাটি ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ অপশনটি চালু করতে হবে। এটি অন করলেই প্রয়োজনীয় এআই মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে ডাউনলোড হয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করা শুরু করবে। ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় এটি বন্ধও করে দিতে পারবেন।

নতুন এই ফিচারটি অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তার প্যাটার্ন বা যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করবে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা, ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া কিংবা প্রেমের অভিনয় করে আর্থিক প্রতারণা (রোমান্স স্ক্যাম)—এসব সন্দেহজনক আচরণ শনাক্তে কাজ করবে এই প্রযুক্তি।

কোনো বার্তার মাধ্যমেই স্ক্যাম বা প্রতারণার লক্ষণ পাওয়া গেলে হোয়াটসঅ্যাপ ওই চ্যাটের নিচে একটি সতর্কবার্তা দেখাবে। এই অ্যালার্টটি শুধুমাত্র প্রাপকই দেখতে পাবেন।

সতর্কবার্তা দেখার পর ব্যবহারকারীর সামনে কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে—তিনি চাইলে প্রেরককে সঙ্গে সঙ্গে ‘ব্লক’ ও ‘রিপোর্ট’ করতে পারবেন, সতর্কবার্তাটি এড়িয়ে যেতে পারবেন কিংবা প্রেরককে ‘বিশ্বস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন। প্রেরককে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বেছে নিলে ওই চ্যাট থেকে সতর্কতার চিহ্নটি মুছে যাবে এবং ভবিষ্যতে ওই নম্বরের ক্ষেত্রে আর কোনো অ্যালার্ট দেখানো হবে না।

যেহেতু এটি একটি এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা, তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। মডেলটির নির্ভুলতা বজায় রাখতে ব্যবহারকারী চাইলে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা নিজে থেকে মেটার কাছে শেয়ার করতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি একেবারেই ঐচ্ছিক, ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া কোনো তথ্যই শেয়ার হবে না।

বর্তমানে সীমিত পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও বিশ্বের সকল ব্যবহারকারীর জন্য ফিচারটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মেটা।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি প্রতিদিন ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার কারণে গ্রাহকরা ২১০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকরা সাড়ে ৪০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে মেটার নতুন এই উদ্যোগ গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন