শেয়ার বাজারে আসছে স্পেসএক্স, লক্ষ্য মঙ্গলে মানব বসতি
আগামী ১২ জুন থেকে নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিক শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে সামনে রেখে শেয়ার বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স। বুধবার প্রকাশিত কোম্পানির হালনাগাদ আইপিও নথিতে বলা হয়েছে, তাদের মূল মিশন হলো ‘মানুষকে বহু-গ্রহের উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি তৈরি করা’।
আইপিও নথিতে প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার। সফল হলে এটি হবে ইতিহাসের বৃহত্তম পাবলিক শেয়ার বিক্রি। এ হিসাবে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আর এর মধ্য দিয়ে মাস্ক পরিণত হতে পারেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারে। আগামী ১২ জুন থেকে নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিক শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মাস্কের এ খেতাব পাওয়া নির্ভর করছে কিছু মাইলফলক স্পর্শের ওপর, যার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের জন্য স্থায়ী বসতি গড়ে তোলা। নথিতে স্পেসএক্স বলেছে, পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশে মানব সভ্যতার বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমেই মানব প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ লক্ষ্য পূরণের মূল হাতিয়ার স্পেসএক্সের 'স্টারশিপ' রকেট, যা এ যাবৎকালে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট। নাসার সঙ্গে শত কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর 'আর্টেমিস' মিশনেও এ রকেট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে স্টারশিপের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে। গত ২২ মে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে পানিতে অবতরণের সময় ‘সুপার হেভি বুস্টার’- এর কয়েকটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু হতে ব্যর্থ হয়, ফলে বুস্টারটি তীব্র বেগে মেক্সিকো উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) স্টারশিপের পরবর্তী সব পরীক্ষামূলক উড়ানের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে চাঁদে যাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।