এআইতে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা সত্যিই কি গোপন থাকে?
ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসওয়ার্ড শেয়ার থেকে বিরত থাকুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইন্টারনেটে সার্চ ইঞ্জিন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ অনেক সময় এমন সব বিষয় খুঁজে বেড়ায়, যা হয়তো কারো সঙ্গেই সরাসরি ভাগ করে নেওয়া সম্ভব নয়। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন সেই জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কিন্তু চ্যাটজিপিটি কিংবা জেমিনির মতো এআই প্ল্যাটফর্মগুলোকে করা আপনার ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল প্রশ্নগুলো কি সত্যিই গোপন থাকে? এই প্রশ্নটি এখন ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর ইনপুট বা প্রশ্নগুলো কোনো না কোনোভাবে সংরক্ষণ করে। সাধারণত সেবার মান উন্নত করা, এআই-এর ভুল সংশোধন এবং ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত উত্তর দেওয়ার লক্ষ্যেই এটি করা হয়। তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করে, এই তথ্যগুলো সবসময় ব্যক্তিগত পরিচয়সহ সংরক্ষিত হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তথ্যগুলো ‘অ্যানোনিমাইজড’ বা পরিচয়মুক্ত করে রাখা হয়।
অনেক সময় এআই- এর কর্মক্ষমতা যাচাই করতে মানুষের সহায়তা নেয় সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো। সেক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কিছু কথোপকথন মানুষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে এটি সাধারণত কঠোর গোপনীয়তা নীতি ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের আওতায় পরিচালিত হয়।
অনলাইন জগতের কোনো প্ল্যাটফর্মই তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থেকে শতভাগ মুক্ত নয়। ব্যবহারকারী যদি নিজের নাম, ঠিকানা, পাসওয়ার্ড কিংবা আর্থিক লেনদেনের তথ্য এআই-কে সরাসরি দিয়ে দেন, তবে তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অনির্ভরযোগ্য বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার একটি বড় অংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর নিজস্ব আচরণের ওপর। প্রযুক্তির এই সুফল ভোগ করতে হলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
প্রয়োজন ছাড়া নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর শেয়ার করবেন না। ব্যাংক ডিটেইলস বা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য কখনোই এআই-তে লিখবেন না। যেকোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আগে তাদের প্রাইভেসি পলিসি বা গোপনীয়তা নীতি এক পলক দেখে নেওয়া শ্রেয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, এআই-তে আপনার তথ্য আংশিক গোপন থাকে। প্রযুক্তি আপনার প্রশ্নগুলো প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করে ঠিকই, তবে তা সরাসরি আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো অনলাইন সেবাই শতভাগ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই এআই-কে আপনার জীবনের অংশ করার পাশাপাশি সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।