শিলাবৃষ্টি কেন হয়, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদদের মতে, শিলাবৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে তীব্র ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং মেঘের ভেতরের অত্যধিক ঠান্ডা তাপমাত্রা।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে অনেক সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে ঝড়-বৃষ্টির সাথে ঝমঝম করে শিলা পড়তে দেখা যায়। প্রকৃতিতে এক অদ্ভুত দৃশ্যের সৃষ্টি হলেও, এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানের জটিল সব প্রক্রিয়া। সাধারণ বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- বৃষ্টি তরল আকারে পড়ে, আর শিলা পড়ে বরফ খণ্ড হিসেবে। কিন্তু কেন এমন ঘটে?
বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদদের মতে, শিলাবৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে তীব্র ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং মেঘের ভেতরের অত্যধিক ঠান্ডা তাপমাত্রা।
সাধারণত গরমের দিনে ভূখণ্ড খুব বেশি তপ্ত হয়ে উঠলে আশেপাশের বায়ুও গরম হয়ে ওঠে। এই গরম ও আর্দ্র বায়ু হালকা হয়ে দ্রুত ওপরের দিকে উঠে যায়। একে বিজ্ঞানীরা ‘আপড্রাফ্ট’ বা ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ বলেন।
ওপরে ওঠার সময় এই উষ্ণ বায়ু ঠান্ডা হতে শুরু করে এবং বাষ্প থেকে জলকণায় পরিণত হয়, যা বিশাল সব মেঘ তৈরি করে। এই মেঘগুলো অনেক উঁচু পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
মেঘের ওপরের দিকের অংশ খুবই ঠান্ডা হয়, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের (শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস) অনেক নিচে থাকে। ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এই জলকণাগুলোকে মেঘের একদম ওপরের ঠান্ডা অংশে নিয়ে যায়, যেখানে সেগুলো বরফের দানা হিসেবে জমে যায়।
এই বরফের দানাগুলো মেঘের ভেতর ওঠানামা করতে থাকে। নিচের দিকের তরল জলকণাগুলোর সাথে সংঘর্ষের ফলে বরফের ওপর আরও নতুন জলের স্তর জমে এবং ওপরের ঠান্ডা অঞ্চলে গিয়ে তা আবারও শক্ত বরফে পরিণত হয়। এভাবেই বরফখণ্ডটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
যখন শিলাখণ্ডটি এতটা ভারী হয়ে যায় যে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ আর এটিকে ধরে রাখতে পারে না, তখন তা পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে মাটির দিকে নেমে আসে। দ্রুত গতিতে পড়ার কারণে অনেক সময় বড় শিলাখণ্ড পুরোটা গলে না এবং বরফ আকারেই মাটিতে পড়ে।
শিলাবৃষ্টি যেমন দেখতে চমৎকার, তেমনি এর ক্ষতির পরিমাণও অনেক। বড় বড় শিলাখণ্ড টিনের চাল, গাড়ি, ঘরবাড়ির জানলার কাঁচের ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়া, শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলেরও ভীষণ ক্ষতি হয়- বিশেষ করে ফল, সবজি ও ধান ক্ষেতে। অনেক সময় শিলা পড়ে পাখি বা ছোট প্রাণী এবং এমনকি মানুষও আহত বা নিহত হতে পারে।