EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

শরীরে ট্যাটু থাকলে অজু ও নামাজ হবে? ইসলামের বিধান কী

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ এএম

শরীরে ট্যাটু থাকলে অজু ও নামাজ হবে? ইসলামের বিধান কী
অ অ

শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তার অজু, গোসল ও নামাজের বিধান কী হবে—এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। ট্যাটু থাকলেই কি অজু-গোসল শুদ্ধ হবে না? এ কারণে কি নামাজ আদায়ে সমস্যা হবে? ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।

ট্যাটু আঁকা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

ইসলামী শরিয়তে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) উল্কি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)

অন্য এক হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী, সুদগ্রহীতা এবং সুদদাতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)

এসব হাদিসের আলোকে ইসলামী আলেমরা ট্যাটু করানোকে হারাম ও কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে অজু, গোসল ও নামাজের শুদ্ধতার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

ট্যাটু থাকলে অজু ও গোসল হবে কি?

সাধারণত স্থায়ী ট্যাটু করার সময় ত্বকের ভেতরে রং প্রবেশ করানো হয়। ফলে ট্যাটুর রং ত্বকের নিচে থাকলে এবং ত্বকের ওপর পানি প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো কোনো আবরণ তৈরি না হলে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে।

অর্থাৎ, শুধু শরীরে ট্যাটু থাকার কারণে অজু বা গোসল বাতিল হয়ে যায় না। তবে ট্যাটুর ওপর এমন কোনো পদার্থের আবরণ থাকলে, যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু বা গোসলের আগে তা সরিয়ে নিতে হবে।

এখানে মনে রাখা জরুরি, ট্যাটু করানো নিষিদ্ধ হওয়া এবং ট্যাটু থাকা অবস্থায় অজু-গোসল শুদ্ধ হওয়ার বিষয় দুটি এক নয়।

ট্যাটু থাকলে নামাজ আদায় করা যাবে?

শরীরে ট্যাটু থাকার কারণে অজু-গোসল শুদ্ধ হলে নামাজ আদায়েও বাধা নেই। তাই আগে ট্যাটু করানো হয়ে থাকলে শুধু এ কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং যথাযথভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে।

কারও শরীরে আগে থেকেই স্থায়ী ট্যাটু থাকলে তা অপসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে অপসারণ করতে গিয়ে শরীরের ক্ষতি, গুরুতর কষ্ট বা অন্য কোনো জটিলতার আশঙ্কা থাকলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ কাজ থেকে বিরত থাকার সংকল্প করা প্রয়োজন।

আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন প্রসঙ্গে কোরআনের বক্তব্য

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুন্দর ও উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ৪)

সুরা আন-নিসার ১১৭ থেকে ১১৯ নম্বর আয়াতে শয়তানের অনুসারীদের পথভ্রষ্ট করা এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে তার প্ররোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তনের নির্দেশ দেবে।

এ প্রসঙ্গে সহিহ মুসলিমে চিত্র অঙ্কনকারীদের বিষয়ে সতর্কবাণীসংবলিত একটি হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবনে আবুল হাসান থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে চিত্র অঙ্কনের বিষয়ে জানতে চান। তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে চিত্র অঙ্কনকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)

তবে চিত্র অঙ্কনসংক্রান্ত হাদিসের বিধান এবং ট্যাটু করানোর বিধান এক বিষয় নয়; প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শরয়ি নির্দেশনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন