গোপন বিয়ে ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা
বিয়েবহির্ভূত নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক রাখা এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে অবস্থান করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্যক্তির চরিত্র ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব-কবুল, সাক্ষী ও অভিভাবকের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার জন্যও কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহর রাসুল (সা.) যুবকদের বিয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা তা চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)
রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি, হাদিস: ৯৭২)
বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তে অভিভাবকের অভিমত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)
অভিভাবকহীন বা গোপন বিয়েকে ইসলাম উৎসাহিত করে না। বিয়ের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা পছন্দনীয় নয়। গোপন বিয়েতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ইসলামের নির্দেশনা হলো, ‘বিয়ে করবে ঘোষণা দিয়ে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৪/৫)
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং এ সময় ন্যূনতম দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক।
বিখ্যাত ফকিহ আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) বলেন, বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল। আর তা নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে অথবা শব্দের স্থলাভিষিক্ত কোনো বিষয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয় না। ফকিহ ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেন, বিয়ে সম্পন্ন হওয়া ইজাব ও কবুলের সঙ্গে শর্তযুক্ত। কারণ, শুধু স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয় না।
সুতরাং, কোনো পুরুষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে যদি বলে, ‘সে আমার স্ত্রী এবং আমি তার স্বামী’; আর নারীও বলে, ‘সে আমার স্বামী এবং আমি তার স্ত্রী’, তাহলে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে না। কারণ, স্বীকারোক্তি হলো আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় প্রকাশ করা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো সম্পর্ক সৃষ্টি করা হয় না।
অতএব, কেউ যদি পরিস্থিতি অনুযায়ী জনসম্মুখে কাউকে স্বামী বা স্ত্রী দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে কোনো ইজাব-কবুল না হয়ে থাকে, তাহলে শুধু সাক্ষীদের সামনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিয়ে সংঘটিত হবে না।
তবে মনে রাখতে হবে, বিয়েবহির্ভূত নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক রাখা এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে অবস্থান করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)
এ আয়াতে শুধু জিনা থেকেই নয়, বরং জিনার কাছাকাছি যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই জিনার দিকে নিয়ে যায় বা জিনার আশঙ্কা সৃষ্টি করে—এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুই চোখের জিনা হলো (কামনার সঙ্গে) তাকানো, দুই কানের জিনা হলো (অবৈধ কথা) শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো (সেদিকে) হেঁটে যাওয়া। আর অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, আর লজ্জাস্থান সেটিকে বাস্তবায়িত করে অথবা করে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ যখন কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫)
সুতরাং, বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক থেকে সবারই সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা উচিত।
