EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

২০৩০ সালে দুবার রমজান, কেন ঘটবে এই বিরল ঘটনা

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ এএম

২০৩০ সালে দুবার রমজান, কেন ঘটবে এই বিরল ঘটনা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

২০৩০ সালে বিরল এক মহাজাগতিক বিন্যাসের কারণে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুবার পবিত্র রমজান মাস পড়বে। ফলে ওই বছর মুসলমানদের দুই দফায় রোজা পালনের সুযোগ তৈরি হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির মধ্যে দিনের সংখ্যার পার্থক্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটবে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতিবছর রমজান শুরুর সময় এগিয়ে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে প্রথম রমজান শুরু হতে পারে ৫ জানুয়ারি, ১৪৫১ হিজরি সনে। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পড়বে ১৪৫২ হিজরি সনে।

এর ফলে ২০৩০ সালের গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মুসলমানদের মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হতে পারে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে আরও ছয় দিন রোজা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পেছনে মূল কারণ হলো দুই বর্ষপঞ্জির হিসাবের পার্থক্য। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে চলে। অন্যদিকে, ইসলামি বর্ষপঞ্জি চাঁদের আবর্তন ও চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল।

একটি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের হয়, যা সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন কম। এ কারণে প্রতি বছর ইসলামি মাসগুলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজান বিভিন্ন ঋতুতে আবর্তিত হয়। এই চক্র মোটামুটি ৩৩ বছরের ব্যবধানে একই ধরনের অবস্থানে ফিরে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুবার রমজান পড়েছিল। ২০৩০ সালের পর ২০৬৩ সালেও এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুসলমানদের জন্য রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা ধর্মীয় কর্তব্যের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন। তবে বছরের কোন সময়ে রমজান পড়ছে, তার ওপর রোজার সময়কালেও পার্থক্য দেখা যায়। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় অনেক অঞ্চলে রোজার সময় তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে রোজার সময় ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় আগে থেকেই অনুমান করা যায়। তবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজানের আনুষ্ঠানিক শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশ চাঁদ দেখার প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে, আবার কিছু দেশ তারিখ নির্ধারণে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবও ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন