EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

এডুকেশন এক্সচেঞ্জ শক্তিশালী করবে বাংলাদেশ-চীন মেলবন্ধন: মাহ্দী আমিন

চীনের গুয়াংঝৌতে শিক্ষা সম্মেলনে যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় ও চীনা ভাষা কেন্দ্র গড়ার ওপর জোর দিলেন মাহ্দী আমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

এডুকেশন এক্সচেঞ্জ শক্তিশালী করবে বাংলাদেশ-চীন মেলবন্ধন: মাহ্দী আমিন

চীনের গুয়াংঝৌতে অনুষ্ঠিত চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন এক্সচেঞ্জ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

অ অ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনযোগাযোগ বাড়াতে এডুকেশন এক্সচেঞ্জই সবচেয়ে বড় মাধ্যম হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। বুধবার চীনের গুয়াংঝৌর সাউথ চায়না নর্মাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন এক্সচেঞ্জ সম্মেলনে’ তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন বাড়াতে চাই। এর জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হতে পারে শিক্ষা বিনিময়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চীনে গিয়ে যেমন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে, তেমনি চীনা শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে এসে সামার স্কুল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবে।

সম্মেলনটি শেষ হয় বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা, একাডেমিক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা অংশীদারিত্ব বাড়াতে দুই পক্ষের অঙ্গীকার প্রকাশের মধ্য দিয়ে। এর আগে সকালে হয় চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সভা। সেখানে চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়—চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন।

বিকেলের সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, চীনে ইতোমধ্যে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থী পাঠানোই যথেষ্ট নয় জানিয়ে তিনি যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে যৌথ গবেষণা ও ল্যাব শেয়ারিং প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষা ও পলিটেকনিক খাতে চীনের অভিজ্ঞতা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে কাজে লাগালে তা বড় পরিবর্তন আনবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহ্দী আমিন কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব ও চীনা ভাষা শিক্ষায় যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশে ‘চীনা ভাষা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে থাকবে যোগ্য শিক্ষক, সুসংগঠিত কোর্স ও শিক্ষাসামগ্রী। পাশাপাশি তিনি চীনা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠান সরাসরি মতবিনিময় করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী মিলন যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মাস্টার্স-পিএইচডি কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার আহ্বান জানান।

চীনের পক্ষ থেকে গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান পরিদর্শক জু শিমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষায় গুয়াংডংয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ২৬১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গুয়াংডংয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ২০২৫ সালে ২০ জন গুয়াংডং সরকারি বৃত্তি পেয়েছেন।

সম্মেলনে সাউথ চায়না নর্মাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াং চেংওয়েইসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

আরও পড়ুন