হিমালয়ে দ্রুত বরফ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়ে সচেতনতার বার্তা
হিমালয়ের ৬,১১৯ মিটার শৃঙ্গে বাংলাদেশের ৩ অভিযাত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
হিমালয়ে ৬ হাজার ১১৯ মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ লোবুচে ইস্টে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ান তিন অভিযাত্রী। ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে
নেপালের হিমালয়ে ৬ হাজার ১১৯ মিটার উচ্চতার সেমি-টেকনিক্যাল পর্বতশৃঙ্গ লোবুচে ইস্ট সফলভাবে আরোহণ করেছেন বাংলাদেশের তিন অভিযাত্রী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তাঁরা পর্বতটির চূড়ায় পৌঁছান।
‘রোপফোর মাউন্টেন এক্সপেডিশন ২০২৬’ শীর্ষক এই অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ থেকে তিন অভিযাত্রী কামরুল ইসলাম, তূর্য দাস ও নাইম আল নাহিয়ান। চূড়ায় পৌঁছানোর পর সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও রোপফোরের অফিশিয়াল পতাকা উড়ান তারা।
‘হিমালয় গলছে, দায় আমাদেরও’ এ প্রতিপাদ্যে হিমালয়ে দ্রুত বরফ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ।
বার্তাটি ধারণ করে পুরো অভিযানে দলটি ‘জিরো-ওয়েস্ট ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করে এবং পাহাড়ে কোনো অপচনশীল বর্জ্য না ফেলে সমতলে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যায়।
গত ১৪ অক্টোবর দলটি বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে। এর আগে গত ৯ অক্টোবর ঢাকার পূর্ব কাফরুলে রোপফোরের কার্যালয়ে আয়োজিত পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অভিযাত্রীদের হাতে জাতীয় পতাকা ও রোপফোরের অফিশিয়াল পতাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযানের দলনেতা ছিলেন কামরুল ইসলাম।
এবারের লোবুচে ইস্ট পিক অভিযানে অংশ নেওয়া তিনজনই রোপফোরের বিশেষ আয়োজন ‘মিশন হিমালয়া ২০২৪’-এর অংশগ্রহণকারী। কামরুল ইসলাম আসরটির বিজয়ী হয়ে স্কলারশিপের আওতায় নেপালের ইয়ালা পিক (৫ হাজার ৫২৫ মিটার) আরোহণ করেছিলেন।
দলের বাকি দুজন সদস্যের জন্য এবার হিমালয়ে প্রথম কোনো পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের অভিযান এটি। তাঁদের মধ্যে নাইম আল নাহিয়ান পেশায় একজন শিক্ষক ও ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন গবেষক এবং তূর্য দাস একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী।
চূড়ায় আরোহণ শেষে অভিযাত্রীরা নিরাপদে ফরিচে গ্রামে নেমে এসেছেন এবং তাঁরা সুস্থ আছেন। রোপফোর আউটডোর এডুকেশনের পক্ষ থেকে তিন অভিযাত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সেমি-টেকনিক্যাল শৃঙ্গটিতে তাঁদের এ অর্জন রোপফোর তথা বাংলাদেশের পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য এক গৌরবময় অর্জন। অভিযাত্রীরা যেন সুস্থ শরীরে নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারেন, সেই প্রার্থনা করছে পুরো রোপফোর পরিবার।
রোপফোর আউটডোর এডুকেশন বাংলাদেশে যুব উন্নয়ন, আউটডোর শিক্ষা ও নিরাপদ পর্বতারোহণ চর্চায় কাজ করা একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটি নিয়মিত অ্যাডভেঞ্চার কোর্স, কর্মশালা, ক্যাম্পিং ও পর্বতারোহণ অভিযানের মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করে থাকে।
তরুণদের মাদক ও ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় 'মিশন হিমালয়া'।
এ ছাড়া বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিভিন্ন বনে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম ও টেকসই অ্যাডভেঞ্চার প্রসারে কাজ করে রোপফোর। রোপফোর অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব মূলত এই সংগঠনেরই একটি বিশেষায়িত ক্লাব।