EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জলবায়ু বিপর্যয়ের আঘাত দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান: পরিবেশমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

জলবায়ু বিপর্যয়ের আঘাত দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান: পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘‘জলবায়ু বিপর্যয় কোনো দূরবর্তী সংকট নয়। এর আঘাত আমাদের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে কারখানার শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে, অন্যদিকে আবাদি জমিতে লবণাক্ততা বাড়ায় খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে।’’

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ফলে দেশের লজিস্টিকস ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হলে তা দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা দেবে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর সবুজ পুনর্বিন্যাস এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীতে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সেমিনার।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রক্ষেপণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই মন্থর গতি ও চলমান মূল্যস্ফীতি কাটাতে দেশের অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. চিংফেং ঝাং জানান, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ শরণার্থীর (অভিবাসী) সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

চিংফেং ঝাং আরও বলেন, এডিবি বিশ্বের ২২টি শহরে ২৫ কোটি ডলারের ‘উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। একটি সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়তে এবং কস্ট-ইফেক্টিভ পরিবেশগত সেবা নিশ্চিত করতে এডিবি বাংলাদেশের পাশে থেকে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু সংকটের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর সর্বোচ্চ ভুক্তভোগী। বিশ্বজুড়ে এখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অর্থনীতির একটি বড় রূপান্তর বা পুনর্বিন্যাস ঘটছে, বাংলাদেশকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

সংলাপে পরিবেশবান্ধব টেকসই শিল্পায়ন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ‘লিড প্লাটিনাম’ সনদে বিশ্বসেরা স্কোর অর্জন করায় হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড এবং সৌর হোম সিস্টেমের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিটের বিপরীতে দেশে ২৩ মিলিয়ন ডলার কার্বন রাজস্ব আনার অনন্য রেকর্ডের জন্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইডকল (আইডিসিওএল)- কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মূল প্যানেল আলোচনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকেরা অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, টিকে গ্রুপের ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহীর, পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ইডকল-এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. মনিরুল ইসলাম।

বক্তারা নদী দূষণ রোধ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ অর্থায়নে সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

এই ছায়া সংলাপের আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক দৈনিক ‘বণিক বার্তা’। সরকারি নীতিনির্ধারক, শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, দেশের খ্যাতনামা শিল্পোদ্যোক্তা, পরিবেশ বিজ্ঞানী ও উন্নয়ন অংশীদারদের চার শতাধিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

আরও পড়ুন